নিজস্ব প্রতিনিধি
ফেনীতে মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ছাত্রদলের এক নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। ঘটনাটি ঘিরে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমান (২৬)কে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম সচল রাখতে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এর আগে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রদল নেতার মধ্যে চাঁদা দাবির অভিযোগে একাধিক অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া একটি ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডের অডিওতে শোনা যায়, নোমান সদর উপজেলার নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহাদ ইফতুর কাছে মাটি পরিবহনের জন্য ১৬ হাজার টাকা দাবি করেন।
অডিওতে নোমানকে বলতে শোনা যায়, সাত দিন ইলাশপুর সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহন করতে হলে এই টাকা দিতে হবে, যা ‘সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত’। টাকা না দিলে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। জবাবে ইফতু বলেন, একই দলের লোক হয়ে টাকা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা লজ্জার।
এক পর্যায়ে নোমান দাবি করেন, এটি ‘পোলাপানের চা-নাশতার টাকা’ এবং সবাই এ টাকা দেয়। তিনি রাত ১০টার পর মাটির গাড়ি চালানোর পরামর্শও দেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নোমানুল হক নোমান। তার দাবি, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের এবং তিনি কোনো চাঁদা দাবি করেননি। বরং স্থানীয় কিছু যুবক একটি মাটির গাড়ি আটকালে তিনি বিষয়টি সমাধান করেন। পরে ইফতু নিজেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে টাকা দিতে চেয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাহমুদুল হাসানকে।
অন্যদিকে ইফতেখার আহাদ ইফতুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাটি ব্যবসার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। সোমবার দুপুরে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
