নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রক্টর দপ্তরের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ঢুকে এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রকাশ্যে সাধারণ দুই শিক্ষার্থীকে নৃসংভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র সমাজ। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং শাখা ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে চালানো এই ‘মব ভায়োলেন্সের’ শিকার হয়ে যখন দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন, ঠিক তখনই উল্টো তাদের পুলিশি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা ক্যাম্পাসে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রোববার এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রক্টর দপ্তরে সমাধান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আগেই রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ছাত্রশিবিরের একদল ক্যাডার প্রক্টর দপ্তরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। অভিযোগের সুষ্ঠু সত্যতা প্রমাণের আগেই দুই শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে উত্ত্যক্ত ও শারীরিকভাবে মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলে রাকসু ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র জায়গা হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আম্মার ও শিবির নেতাকর্মীরা জোটবদ্ধ হয়ে দফায় দফায় ওই শিক্ষার্থীদের ওপর নারকীয় হামলা চালায়। শিবিরের ক্যাডারদের মধ্যযুগীয় বর্বরতায় গুরুতর আহত হন ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মো. আনাস এবং মাহমুদুল হাসান। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেও প্রক্টর ও চিকিৎসকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি করে শিবিরের ক্যাডাররা।
সোমবার রাতে পুলিশি ও প্রশাসনিক চক্রান্তে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই দুই শিক্ষার্থীকেই একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই মবকারীদের কথায় সায় দিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের এমন একপেশে পদক্ষেপে মারাত্মক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য—একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসে অপরাধের বিচার করার একক এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, কোনো নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন কিংবা আম্মার-শিবিরের ক্যাডারদের নয়। শিবিরের এই ‘মব বিচার’ ও বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ক্যাম্পাসে বাকস্বাধীনতা ও নিরাপত্তার পরিবেশকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো স্বৈরাচারী শক্তির পতন ঘটিয়ে আবার নতুন করে শিবিরের এই ‘ক্যাডারতন্ত্র’ ও বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
ইতোমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে লাইব্রেরি ও ক্যাম্পাসে পড়ার নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, প্রক্টর দপ্তরের সামনে ও লাইব্রেরিতে ঢুকে প্রকাশ্যে মব ভায়োলেন্স চালানো রাকসুর জিএস আম্মার ও শিবির ক্যাডারদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার ও আইনি শাস্তির জোর দাবি তুলেছেন।
