ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ফেসবুকে ইয়াবা সেবনের ছবি ছড়ানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার মামলায় ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত ওয়াসেল আহমেদ আজহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) হালুয়াঘাট থানা পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আজহারকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ জেলা কারাগারে প্রেরণ করে।
এর আগে গত রোববার রাতে উপজেলার ধুরাইল গ্রাম থেকে যৌথ পুলিশের এক অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফেসবুকে হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের কাওলারা এলাকার লিটন মিয়া নামের এক ব্যক্তির ইয়াবা সেবনের একটি স্পর্শকাতর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। লিটনের পক্ষের লোকজন সন্দেহ করেন যে, এই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছেন উত্তর ধুরাইল এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হক মুকুল। এই সন্দেহের জেরে মুকুলের ওপর মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে লিটনের অনুসারীরা এবং তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে।
উক্ত শত্রুতার জেরে গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে ধুরাইল বাজারের একটি দোকানে যান মুকুল। সেখানে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আচমকা হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। মুকুলের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নৃশংস এই হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আহত মুকুলের ছোট ভাই মো. রোকন মিয়া বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওয়াসেল আহমেদ আজহারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও একাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, “গুরুতর হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ওয়াসেল আহমেদ আজহারকে সফল অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
