নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট (স্থায়ী অভিবাসন) ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হলেও আবেদনকারীদের মাঝে এখনো নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আবেদনকারীদের অনুমানের ওপর নির্ভর না করে কেবল সরকারি নির্দেশনা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত (‘পজ’) করে। মূলত কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ভবিষ্যতে সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না অর্থাৎ ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত যাচাই পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়।
অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী জানান, এই ‘ভিসা পজ’ নিয়ে অনেকের মাঝেই ভুল ধারণা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এটি সব ধরনের মার্কিন ভিসার ওপর কোনো ঢালাও নিষেধাজ্ঞা নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ কেবল ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ট্যুরিস্ট (B1/B2), স্টুডেন্ট (F1) সহ সকল প্রকার সাধারণ ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা’ এই পজের আওতার বাইরে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, পজের আওতাভুক্ত দেশের আবেদনকারীদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়া কিংবা কনস্যুলার ইন্টারভিউতে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি এবং ইন্টারভিউ নির্ধারণও চলমান রয়েছে। তবে ইন্টারভিউ হলেও চূড়ান্ত ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে তালিকার বাইরে থাকা কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্টধারী দ্বৈত নাগরিক কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট এক্সসেপশন’ বা জাতীয় স্বার্থের ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া তথাকথিত সংবাদের ব্যাপারে সতর্ক করে অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বাস্তবে সেগুলো অনেক সময় শুধুই অনুমান। কোনো আদালতের আদেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে সেটি ঠিক কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা না জেনে নিজের মামলার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল হবে।”
ইন্টারভিউ প্রস্তুতির বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আইন জানুন, আইন মানুন। কোনো ইউএস এম্বাসিতে কখনোই মিথ্যা তথ্য দেবেন না এবং কোনো প্রকার ভুয়া বা জাল ডকুমেন্ট জমা দেবেন না।” প্রতিটি আবেদনকারীর নিজস্ব আর্থিক ও পারিবারিক নথিপত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
রিপোর্টে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পজ কার্যকর হওয়ার আগে ইস্যু হওয়া বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল হয়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থানরতদের গ্রিন কার্ডের জন্য ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ আবেদনও কনস্যুলার ভিসা পজের আওতামুক্ত। বিভ্রান্তি এড়াতে আবেদনকারীদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
