নিজস্ব প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
রোববার সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারমিন জাহানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থী তার স্বামী ফাহিম আল হাসানের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বরং একটু প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েই তারা চুপ।
বরং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একটি ইফতার পার্টিতে ব্যস্ত ছিলেন তার রাজনৈতিক যোগসাজশের জন্য বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
চ্যানেল ১৪ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তার বিরুদ্ধে ছাত্রাবস্থায় শিবির করা এবং ক্যাম্পাসে শিবিরকে পুনরায় সংগঠিত করার অভিযোগ রয়েছে। সাথে জামায়াতের সাথে যোগসাজশে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনের পর যখন জামায়াতের পরাজয়ের ফলে তার ভিসি নিয়োগ বাতিল যেন না হয় সেই লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। যার ফলে মর্গে ছাত্রীর লাশের থেকে তার কাছে প্রতিমন্ত্রীর ইফতার পার্টিতে যাওয়া বেশী গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
