নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একের পর এক আকস্মিক ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করে রাজপথে নিজেদের জোরালো উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দলটির এই অতর্কিত ও ধারাবাহিক রাজপথের উপস্থিতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে চরম এক অস্বস্তিকর ও দিশেহারা পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এই সফল ও আকস্মিক মিছিলের খবর আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসি মোড়, দেওয়ানহাট, নতুন ব্রিজ ও বহদ্দারহাট এলাকায় লাঠিসোঁটা ও ব্যানারসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক বিশাল শোডাউন সম্পন্ন করেছে। অনুরূপভাবে ময়মনসিংহের ভালুকা, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা এবং শরীয়তপুরের ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কেও হঠাৎ করেই শত শত নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে সুশৃঙ্খল মিছিল বের করেন।
এসব মিছিলে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বীরত্বপূর্ণ মিছিলের ভিডিওগুলো মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যাপক তোলপাড় ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এর শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে বা কারাগারে থাকা সত্ত্বেও দলটির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা যেভাবে নিজেদের সুসংগঠিত করে রাজপথে নামছেন, তা তাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির পরিচয় দেয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভেতরে এক ধরণের চরম সমন্বয়হীনতা ও দিশেহারা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঝটিকা মিছিলগুলোর আগাম তথ্য কেন সংগ্রহ করতে পারল না, তা নিয়ে খোদ সরকারের শীর্ষ মহলে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। একটি সফল মিছিল শেষ হতে না হতেই অন্য এলাকায় আরেকটি মিছিলের খবর আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মিছিলের পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার এখন দেশজুড়ে কঠোর চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ভিডিও ফুটেজ দেখে গত ২৪ ঘণ্টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ৬৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
পাশাপাশি ময়মনসিংহ, যশোর ও শরীয়তপুরে বিশেষ টহল টিম নামানো হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের ধরতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মিছিলের ভিডিও ছড়িয়ে যারা সাধারণ নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করছেন, তাদের চিহ্নিত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে সর্বোচ্চ অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই ধারাবাহিক ঝটিকা মিছিলগুলো মূলত বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছে। সরকার আপাতদৃষ্টিতে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও যেভাবে রাজপথে একের পর এক সফল শোডাউন হচ্ছে, তাতে প্রশাসনের ভেতরের অস্থিরতা সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে গেছে।
