নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এক নজিরবিহীন ও মেগা চ্যালেঞ্জিং বক্তব্য নিয়ে হাজির হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ঐতিহাসিক ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর’ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি সরাসরি স্পষ্ট ভাষায় আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশকে রাজাকার মুক্ত করা সম্ভব।” চব্বিশের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েই তাঁর পক্ষ থেকে আসা এই চরম আক্রমণাত্মক ও অকুতোভয় ঘোষণা জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল তোলপাড় ও নতুন মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক বক্তব্য প্রকাশের পরপরই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী দলগুলোর অন্দরে এক তীব্র আলোড়ন ও নানামুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাদের দেশবিরোধী ও উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ তুলে বলেন, দেশের একটি নির্দিষ্ট দল মহান মুক্তিযুদ্ধকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সমস্ত কৃতিত্ব ও ক্রেডিট একচ্ছত্রভাবে নিজেদের পকেটে পুরতে চাইছে। প্রতিমন্ত্রীর দাবি, এই বিশেষ দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবস এবং ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর ভূমিকা পালন করে আসছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই চক্রটি বর্তমানে দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ইশরাক হোসেন স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, একাত্তরের বীর শহীদদের রক্তের সাথে কোনো আপস করা হবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যদি প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামতে হয়, তবে এই অপশক্তি ও আধুনিক রাজাকারদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরো বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল ও মুক্ত করা সম্ভব হবে। তাঁর এই মেগা হুঁশিয়ারি সোশাল মিডিয়ায় নিমেষেই আগুনের মতো ভাইরাল হয়ে গেছে এবং তৃণমূলের স্বাধীনতাকামী তরুণ সমাজ এটিকে তাদের আগামী দিনের পথচলার এক বিশাল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে লুফে নিচ্ছেন।
তবে প্রতিমন্ত্রীর এমন চরম আলটিমেটামের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন সরকারের অধীনে দেশ যখন একটি democratic ও সহনশীল পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন এ ধরনের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম মাঠপর্যায়ের রাজনীতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের একাংশ এই কড়া বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, চব্বিশের স্পিরিট ধরে রাখতে এবং একাত্তরের চেতনার অবমাননাকারীদের রুখতে এমন আপসহীন অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই।
