নিজস্ব প্রতিনিধি
রাজনৈতিক অঙ্গনে শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মির্জা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির। অনেকের কাছে ‘ডার্বি নাসির’ নামেও পরিচিত এই নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি।
সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। সংসদ অধিবেশন বসার দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অসুস্থতা ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে আলোচনায় আসে অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী মেঘনা আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট। সেখানে তিনি দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার পেছনে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মেঘনা আলম লিখেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যক্তিগতভাবে দেখা হলে তিনি মির্জা আব্বাসের ভদ্রতা ও সম্মানবোধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একবার তিনি লিফলেট দিলে মির্জা আব্বাস চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে সেটি গ্রহণ করেছিলেন—যা তার কাছে একজন সিনিয়র রাজনীতিকের শিষ্টাচারের উদাহরণ বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একসময় মির্জা আব্বাস নিজেই তাকে জানিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা রয়েছে। তখন তিনি তাকে সাহস দিয়ে বলেন, জনপ্রিয় রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এমন মামলা থাকতেই পারে।
সম্প্রতি নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর একটি বক্তব্যে মির্জা আব্বাসের ছেলেকে জড়িয়ে মন্তব্য করার বিষয়টিও তার পোস্টে উঠে আসে। তার মতে, সন্তানের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে মেঘনা আলম দাবি করেন, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য প্রায় ‘৮০ শতাংশ দায়’ নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্যের ওপর বর্তাতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর আচরণের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই দেখছেন।
