নিজস্ব প্রতিনিধি
শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়ায় একসঙ্গে কাঠগড়ায় উঠতে হচ্ছে গর্ভধারিণী মা ও ছেলেকে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এমন দৃশ্য দেখতে হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া রাজনৈতিক দলের সদস্য, কর্মী ও সমর্থকদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য করছেন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আলাদা প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয়েছিল দুজনকে। আদালতে তোলার সময় মা ও ছেলেকে একই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখা যায়। একজন মা, অন্যজন তার সন্তান। দীর্ঘ সময় পর দেখা হলেও সেই সাক্ষাৎ ছিল না কোনো পারিবারিক পরিবেশে। বরং আদালতের কাঠগড়ায়। একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুহূর্তটি অনেকের চোখে অশ্রু এনে দেয়।
বলছিলাম যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি সালমা ভূইয়া চায়না এবং তার ছেলে সামির কথা। সামি হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তারা কারাগারে আছেন।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত অনেকেই বলছেন, মা ও ছেলেকে একসঙ্গে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা একটি আবেগঘন ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল। দীর্ঘদিন পর দেখা হলেও তাদের মধ্যে কোনো কথা বলার সুযোগ ছিল না। শুধু চোখে চোখ পড়ার মুহূর্তটুকুই যেন অনেক কথা বলে দিচ্ছিল।
এই দৃশ্যের একটি ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ এটিকে একটি মর্মস্পর্শী পারিবারিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সমালোচনা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, মা ও ছেলে মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হচ্ছে। তবে মামলার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনজীবীদের মতে, আদালতের কাঠগড়ায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি বিচার প্রক্রিয়ার একটি নিয়মিত অংশ। তবে পারিবারিক সম্পর্কের দুইজন মানুষকে একই মামলায় এমন পরিস্থিতিতে দেখা গেলে তা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আবেগকে নাড়া দেয়।
আদালত প্রাঙ্গণের সেই দৃশ্য তাই অনেকের কাছে শুধু একটি আইনি ঘটনার ছবি নয়। বরং এক মায়ের সঙ্গে তার সন্তানের নীরব মুখোমুখি হওয়ার মুহূর্ত। বিচার বিভাগের এই অমানবিকতাও হয়ত একদিন ইতিহাস হবে।
