৭.৬২ মিমি বুলেটের অভিযোগ নিয়ে ‘ম্যাসিভ তদন্ত’ চেয়েও পাননি এমন দাবি করেছেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলন ঘিরে যে প্রশ্নগুলো তখন উঠেছিল, সেগুলোর অনেকগুলোরই এখনও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি।
সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে সে সময় অনেকেই ভারতবিরোধী বলে সমালোচনা করেছিলেন। তার প্রশ্ন, যদি আন্দোলনের সময় কথিত স্নাইপাররা সত্যিই বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় হয়ে থাকে যেমনটি কেউ কেউ দাবি করেছেন তাহলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়নি কেন? তার ভাষ্য, বিদেশি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে সরকারের অবস্থান অবশ্যই ভিন্ন হতো।
তিনি আবারও ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের বুলেটের প্রসঙ্গ তোলেন। তার দাবি, আন্দোলনের সময় নিহত কয়েকজনের শরীরে এই ধরনের বুলেটের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে “বৃহৎ পরিসরের তদন্ত” বা ‘ম্যাসিভ ইনভেস্টিগেশন’-এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তার দাবি, সেই প্রস্তাব আর এগোয়নি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গুলশানে আহত আনসার সদস্যদের শরীরেও একই ধরনের বুলেটের ট্রেস পাওয়া গিয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত নিয়ন্ত্রিত বা সামরিক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এ ধরনের অস্ত্র সিভিলিয়ানদের হাতে কীভাবে এলো।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একাধিকবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তোলার চেষ্টা করলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে ৭.৬২ মিমি বুলেট সংক্রান্ত অভিযোগে বড় ধরনের কোনো তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে এ বিষয়ে বর্তমান সরকার বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জুলাই আন্দোলন ঘিরে স্নাইপার বা প্রশিক্ষিত শুটারদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। সাখাওয়াত হোসেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র পথ, যাতে দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ সহিংসতা প্রতিরোধ দুই দিকই নিশ্চিত করা যায়।
