নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম এবং এর তীব্র উপসর্গে একের পর এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হলেও দায়িত্বশীল মহলের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৬৩৯ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
এত বিপুলসংখ্যক শিশুর জীবন প্রদীপ অকালেই নিভে যাওয়ার পরও দেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গনের কোথাও এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিনেও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের গাফিলতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বর্তমান সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দেশের সচেতন নাগরিক সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের এই চলমান সংকটের তীব্রতা দিন দিন কতটা বিপজ্জনক রূপ ধারণ করছে, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টাতেই হামের উপসর্গ এবং ল্যাব-নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও ৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ঢাকা বিভাগের, যেখানে এক দিনেই মারা গেছে ৬ জন শিশু। বাকিরা সিলেট ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।
দেশের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জাতীয় সংসদে প্রতিনিয়ত কত শত রাজনৈতিক ও আইনি বিষয়ে আলোচনা ও নানামুখী বিতর্ক হয়। কিন্তু এই শিশুদের অকাল মৃত্যুর জন্য যারা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সরাসরি দায়ী, সেই সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ও তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সংসদে বা রাজনৈতিক মহলে কোনো ধরণের নূন্যতম আলোচনা পর্যন্ত হচ্ছে না।
প্রশাসনের এই রহস্যজনক উদাসীনতার পাশাপাশি আইনি বিচার পাওয়ার পথও ভুক্তভোগীদের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের সচেতন আইনজীবীরা শিশুদের এই মৃত্যুর সুবিচার নিশ্চিত করতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলার আবেদন করলেও বিজ্ঞ আদালত থেকে প্রতিবারই তাদের আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সন্তানহারা পরিবারগুলো স্পষ্ট করেই বলছে, ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক প্রভাবের কারণে হয়তো প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরণের কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করছে। সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী নীরবতা ও এড়িয়ে চলার নীতি বর্তমান প্রশাসনের সামগ্রিক স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সুশাসনের সদিচ্ছাকেই বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
