নিজস্ব প্রতিবেদক : মুখে সুশাসনের খৈ ফুটলেও কাজে তার ঠিক উল্টো প্রতিফলন ঘটার অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় পশুর হাটের নামে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও তছনছ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তদন্তে প্রায় ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকার পাবলিক সম্পত্তি ধ্বংসের এই নজিরবিহীন চিত্র উঠে আসার পর সাধারণ নাগরিকসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল (বিএনপির অঙ্গ সংগঠন) উত্তরা দিয়াবাড়ির বউবাজার এলাকায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর হাট বসানোর ইজারা পেয়েছিল। কিন্তু সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তারা নির্ধারিত সীমানা পেরিয়ে হানা দেয় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের ঠিক নিচে। মেট্রোরেলের নিচের দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছপালা এবং বিপুল টাকা ব্যয়ে নির্মিত নিরাপত্তা বেষ্টনী পদদলিত করে সেখানে রীতিমতো পশুর হাট চালানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএনসিসি কর্মকর্তারা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও ইজারাদার পক্ষ তা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে এবং পুরো মেট্রোরেল এলাকা তাদের ইজারার আওতাভুক্ত বলে ক্ষমতার দাপট দেখায়।
ডিএনসিসির বিশেষ তদন্ত কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশুর হাটের কারণে মেট্রোরেল ও সিটি করপোরেশনের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা রীতিমতো ভয়াবহ। এর মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের গাছপালা ধ্বংস বাবদ ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সুরক্ষামূলক লোহার বেড়া (ফেন্সিং) ভাঙচুর বাবদ ৬ লাখ টাকা এবং হাটের বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যয় বাবদ ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
উত্তরা ও দিয়াবাড়ির মতো একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড সচেতন নাগরিকদের মনে পুরোনো ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, দলগুলোর অঙ্গ সংগঠনের এই আচরণে যেন সেই ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন ঘটল। যে দলগুলো সামান্য পশুর হাটের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে না, তাদের মুখে সুশাসন ও নৈতিকতার দোহাই নিছক এক প্রহসন বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
ঘটনার সত্যতা পেয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক ইজারাদারের জামানত থেকে পুরো ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার (বাজেয়াপ্ত) নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিলেও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—৩০ লাখ টাকায় কি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর আঘাতের প্রকৃত ক্ষতিপূরণ সম্ভব? টাকা হয়তো আদায় হবে, কিন্তু জনগণের সম্পদের প্রতি এই প্রকাশ্য অসম্মান এবং ট্রাস্ট বা আস্থার যে সংকট তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
