নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশ যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনে বিপর্যস্ত—ঠিক সেই সময়েই অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক শক্তিকেন্দ্র সক্রিয় ছিল।
সমালোচকদের ভাষায়, এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠদের নিয়ে গড়া ‘কিচেন কেবিনেট’ আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থেকে নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতো ।
আশ্চর্যজনকভাবে মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে জেফরি এপিস্টিনের প্রভাব নেটওয়ার্কের সঙ্গে ছিল সুসম্পর্ক। একই পদ্ধতিতে ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেট দেশকে রাখতো অস্থিথিশীল।
অন্দরমহলের সিদ্ধান্তকেন্দ্র?
সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে নয়, বরং একটি সীমিত বলয়ে নেওয়া হতো। তার ভাষায়, “দেশ অগ্নিগর্ভ, অথচ আমাকে ডাকা হয়নি।”
গণমাধ্যমের একাধিক সূত্র বলছে, সদ্য বিদায়ী শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে ঘিরেই এই বলয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
প্রশাসনিক বাস্তবায়নে যুক্ত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি ও প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ। জনমত ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সমালোচকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এই বলয়ের অনানুষ্ঠানিক সম্মতিতে চূড়ান্ত হয়েছে।
বিশেষ করে নিরাপত্তা ও স্থানীয় সরকার কাঠামোয় কিছু নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হিযবুত তাহরীর–সংশ্লিষ্ট অতীত থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়, যদিও সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে—দেশকে আদর্শিকভাবে ডানঘেঁষা নীতিপথে নেওয়ার এক ধরনের নীরব প্রচেষ্টা চলছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করা হয়েছে।
বিতর্কের মীমাংসা এখনো হয়নি। তবে ক্ষমতার অন্দরমহল যে জনতার নজর এড়ায় না—এই ঘটনাপ্রবাহ তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।
