নাসরীন সুলতানা
সহযোগী অধ্যাপক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার চাচাতো বোন আমাদের দলের সর্দার ছিল। মানে, তার নেতৃত্বে কবে কী খেলা হবে সেগুলো নির্ধারিত হতো। রান্নাবাটি খেলা থেকে শুরু করে চাল পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভেজা চালের ভাত খাওয়াও খেলার পার্ট ছিল। তো আপার নেতৃত্বে আমরা প্রায়ই চৌর্যবৃত্তিতে লিপ্ত হতাম।
আমাদের বাড়ির সীমানা শেষ হলেই কাজী বাড়ির জমি। সেই জমিতে প্রচুর টমেটো চাষ হতো। গরমের দিনে কাঁচা মরিচ আর ধনেপাতা দিয়ে টমেটো মাখানো অপূর্ব ছিল। টমেটোগুলো আবার অনেকটা কমলার কোয়ার মতো কোষ-কাটা ছিল। আধা-কাঁচা আধা-পাকা টমেটো লাল আর সবুজের এক অসাধারণ কম্বিনেশন।
কাজী বাড়িতে এক দাদী ছিলেন। দাদী টমেটো বাগান পাহারা দিতেন। দাদী যেহেতু বাগান পাহারা দিতেন, আমরা ৪/৫ জন সেই কঠোর পাহারা ভেদ করে কিছুতেই টমেটো ছিঁড়তে পারতাম না। তাছাড়া ধরা পড়লে তো আমার মায়ের মার একটাও মাটিতে পড়ত না।
আপার দারুণ বুদ্ধি ছিল। সে বুঝত যে করেই হোক আমাদেরকে মুরুব্বিদের হাত থেকে সেভ করতে হবে। তো আমার আপা দারুণ এক বুদ্ধি বের করল। সে আমাদের বলল যে সে কাজী দাদীর সঙ্গে গল্প করে তাকে ব্যস্ত রাখবে, সেই সুযোগে আমরা টমেটো ছিঁড়ে নিয়ে আসব। সে সত্যি সত্যি কাজী দাদীর সঙ্গে গল্প জুড়ে দিত, আর চোখ রাখত আমাদের দিকে। আমরা যখন টমেটো ছিঁড়ে নিয়ে আসতাম, তখন আপা গল্প শেষ করে বাড়ি চলে আসত। তারপর আমাদের খাওয়া-দাওয়া চলত।
যাই হোক, তখন আমার বয়স ৬/৭ হবে। এবং আমি ছিলাম এই খেলার টিমের কনিষ্ঠ সদস্য। টমেটোর দাম খুব কম ছিল, এবং প্রতি বাড়িতেই সবজির ঝুড়িতে টমেটো থাকত। কিন্তু তারপরও এটা যে কেন করতাম, এখন মাথায় আসে না।
জামায়াতের আমীর মোটামুটি একটা বুদ্ধি বের করেছেন। তিনি একেক দিন একেকটা বক্তব্য দিয়ে বিএনপির মনোযোগ তার দিকে রাখবেন, আর সেই সুযোগে জামায়াতের ভোটারগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহ করবেন। বিএনপির উচিত এখন আমীরের দিকে নজর দেওয়ার জন্য একটা টিম আলাদা করে রাখা, যাতে করে আমীর মনে করেন—সবাই মনে হয় তার কথা নিয়েই ব্যস্ত।
