নাসরীন সুলতানা
সহযোগী অধ্যাপক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমি মাঝেমধ্যেই বলি বাকিরা যা করুক বা না করুক আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতাদের দর্শন পড়া উচিত, বিশেষ করে ভাষাদর্শন এবং লজিক পড়া উচিত। তাতে করে তারা ভাষার ব্যবহারে আরো সচেতন হবেন।
প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড পেজসহ অনেকে নিচের ফটোকার্ডটি শেয়ার করছেন। এই ফটোকার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী দেশকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ। সেটা খুলতে হবে। মানে অন্তরবর্তী সরকারের ১৭ মাসও দেশ এগিয়ে নেওয়ার কোন সুযোগ ছিল না।
এবার আসি এগিয়ে নেওয়া বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? দেশের কোন পা নেই যে সে হেঁটে হেঁটে সামনে আগাবে। তারমানে দেশের উন্নতিকেই এখানে এগিয়ে নেওয়া বোঝানো হয়েছে। তো কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে? একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি, যোগাযোগ, মানবসম্পদ, খাদ্য, চিকিৎসা, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কত দিক আছে। কোন পরিকল্পনার আছে সেগুলো নিয়ে? না, নেই। সে জন্যই “দেশকে এগিয়ে” এর মতো অস্পস্ট এবং দ্ব্যার্থবোধক টার্মের ব্যবহার করা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ দিলে এগুলোর কী হবে? কে করবে সেই উন্নয়ন?
আমার এক বন্ধু আমাকে কিছুদিন আগে হ্যাঁ ভোটে প্রচারণা চালানোর জন্য অনুরোধ করেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন কিনা? এই হ্যাঁ ভোট জিতলে রাষ্ট্রের কী কী সুবিধা হবে? সেই কাজগুলো কারা করবে? আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা? কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কিনা? এনসিপি কেন স্বাক্ষর করেনি? তিনি বলেছেন তিন আশাবাদী কেউ না কেউ করবে। ভবিষ্যতে কোন কোন উপায় বের হবে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার।
ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে গিয়ে যারা নিজেরাই ফ্যাসিস্ট হয়ে বসে আছেন, দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে ফেলেছেন, স্বজনপ্রীতির এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, দেশের ইতিহাসে নারীদের সবচেয়ে কম অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুন্যের কোটায় তাদের কাছে দেশ এগিয়ে নেওয়ার মূলমন্ত্র শুনতে ভালোই লাগে।
সত্যি দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
