নাসরীন সুলতানা
সহযোগী অধ্যাপক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমার এক সময়ের পরিচিত একজনের গল্প বলি। সে খুব মা ভক্ত ছেলে। এমন মা ভক্ত যে মা যদি বলে “আজ সূর্য উঠবে না” ছেলে সত্যি সত্যি মনে করতো মা যেহেতু বলেছে সেহেতু সূর্য আজ সত্যি উঠবে না। কিন্তু সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, সূর্য উঠে অস্ত যায়। ছেলে মনে করে মা যেহেতু বলেছে আজ সূর্য উঠবে না সেহেতু যা দেখেছি তা সকলই চোখের ভুল, কিংবা দিবাস্বপ্নও হতে পারে।
এভাবে দিন যায় আর ছেলের মায়ের কথার উপর ভরসা বাড়তে থাকে। মা আবার ভীষণ ধর্মভীরু। সারাদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাথে যত রাকাত নফল তাহাজ্জুদ পড়া যায় কোন নামাজ বাদ দেন না। সেই সাথে নফল রোযা, দোয়া দরুদ তো আছেই। তো মা সারাদিন ইবাদত করেন আর ছেলের যেন সরকারি চাকরি হয় সেই জন্য মানত করতে থাকেন। নামাজে বসে ছেলের জন্য কাঁদেন, মসজিদে মানত করেন। নামাজ শেষে ছেলের মাথায় তিন ফুঁ দিয়ে দোয়া পড়ে দেন। আর ছেলেকে মনে করিয়ে দেন আল্লাহ চাইলে তার চাকরি এমনি এমনি হবে।
এই যে আল্লাহ চাইলে ছেলের চাকরি এমনি এমনি হবে এটি মা কেবল মুখের কথা বলতেন না। তিনি মন থেকে বিশ্বাস করতেন। আর আল্লাহর ভরসায় নিজের ছেলের চাকরির জন্য পড়াশোনা করার সময়টাতে সারাক্ষণ ঘরসংসারের কাজ, নিজের ভাইবোন আত্মীয়স্বজনের বিপদ আপদ সকল কাজে ছেলেকেই একমাত্র কাজের মনে করতেন।
ছেলে মনে করে মা যেহেতু দোয়া করে দিয়েছেন সুতরাং দোয়ার বরকতে তার বিসিএস হয়ে যাবে। সে না হলেও যে কোন একটা সরকারি চাকরি হবেই। ছেলে নিশ্চিন্তে থাকেন। পড়ালেখা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ির কাজ, আত্মীয়স্বজনের উপকার করতে থাকে। ছেলের সব ভালো লাগে, শুধু পড়তে ভালো লাগে না। যখন পরীক্ষা আসে, পড়ার দরকার হয়, ছেলে ঘর গোছানো থেকে শুরু করে মামা খালার বিপদে ঝাপিয়ে পড়ে।
ধীরেধীরে ছেলের সরকারি চাকরির বয়স চলে যায়। মা-ও এক সময় মারা যায়। ছেলের ভাইবোনেরা যার যার মতো প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুখে শান্তিতে সংসার করে। বেকার ছেলের না হয় চাকরি, না হয় সংসার। দুই মাস এই ভাইয়ের বাসায়, দুই মাস অন্য বোনের বাসায় এভাবে তার দিন কাটতে থাকে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের একটা বক্তব্য শুনছিলাম। তিনি বলছেন, “আল্লাহ চাইলে তারা নির্বাচনে জিতবেন।” সরি টু সে, এত বছর বিদেশে থেকে আপনারা তাঁর বক্তব্য, আচরণের অনেক সুন্দর দিক খুঁজে পাচ্ছেন। কিন্তু, আমার কাছে সামান্য সৌজন্য ছাড়া বিশেষ কিছুই নজরে পড়ছে না। তাঁর বক্তৃতায় কোন কংক্রিট প্ল্যান নেই। সব এলোমেলো ভাবনা দিয়ে বক্তৃতা সাজানো। নির্বাচনের আগে তো এমন হওয়ার কথা নয়। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েই সবাই কেন্দ্রে চলে যাবে ভোট দিতে। কিন্তু প্রবাসী ভোটের কিন্তু কোন এজেন্ট নেই।
বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামাতের প্রচরণা দেখুন। অত্যন্ত গোছানো প্রচারণা। তাদের বক্তব্যও কিন্তু পরিস্কার। সেই সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা তো আছেই। তারা কিন্তু সরাসরি ধর্ম কেন্দ্রিক রাজনীতি করে। তারপরও আল্লাহর উপর সব ছেড়ে দিয়ে বসে নেই।
আল্লাহ চাইলে জিতিয়ে দিবেন। তবে জেতার চেষ্টাটা আপনাকেই করতে হবে। বিভিন্ন সুধীজন যে বার্তা দিতে চাচ্ছেন বিএনপির কান পর্যন্ত মনে হয় না সেটি পৌঁছাচ্ছে।
জামায়েত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটা ভোট ক্যাম্পেইন করেছে। সেটি পারলে দেখুন।
