নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার ঘটনা বাড়ছে। এমনকী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের উপরে হামলারও অভিযোগ উঠছে।
যদিও দুটো দল ১১ দলীয় জোটের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। কিন্তু মাঝপথেই ভেঙ্গে যায় দল দুটোর জোট, পরে জোট ভেঙ্গে একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন।
সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা ও ভোলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক বরকত উল্লাহ লতিফ অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা-১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবু সাইদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় দাকোপ উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, স্থানীয় জামায়াত নেতা হরমুজ শেখ, ইলিয়াস ও আমানুল্লাহর নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়।
বরকত উল্লাহ লতিফ বলেন, ‘মহিলা ইউনিটের প্রধান রোজিনা বেগমসহ অন্তত ১১–১২ জন নারী কর্মীকে একটি ঘরে আটকে রেখে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। গত ২৮ জানুয়ারি ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর মেয়ে মারিয়া কামালের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। সে ঘটনায় জামায়াত নেতা সোহেল ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়। ‘তখনও আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কিন্তু একটি ইসলামপন্থী সংগঠন হয়েও জামায়াত তাদের উগ্র কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলেই এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে,’ বলেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মুফতি শওকত ওসমান বলেন, ‘জামায়াতের কিছু উগ্র কর্মী সীমা অতিক্রম করেছে। হাতপাখার গণজোয়ারে ভীত হয়ে তারা নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা চরম ধৃষ্টতা। জামায়াত আমিরের উচিত তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ শাহাদাত হোসেন এবং ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি হাফেজ মো. মুস্তাইজ বিল্লাহ। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেসার উদ্দিন হুজাইফে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন আসনে প্রার্থী ও ভোটব্যাংক নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। এর জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা, মিছিল ও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
