তালেবান শাসনে আফগানিস্তানের নতুন ফৌজদারি আইনে ‘দাস’ শব্দের অন্তর্ভুক্তি দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এক শতাব্দীরও বেশি আগে আফগানিস্তান দাসপ্রথা বিলুপ্ত করলেও সাম্প্রতিক আইনি ভাষায় ‘মুক্ত ব্যক্তি’ ও ‘দাস’ আলাদা করে উল্লেখ করাকে অনেক বিশেষজ্ঞ প্রতীকী পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখছেন।
১৯২৩ সালে রাজা আমানুল্লাহ খানের শাসনামলে আফগানিস্তানে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সংবিধানগুলোতেও মানুষের স্বাধীনতা ও সমতার নীতি বজায় ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর নতুন আইনি কাঠামোতে এমন শব্দচয়ন ফিরে আসা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আইনটি সরাসরি দাস কেনাবেচার অনুমতি না দিলেও দাসত্বকে একটি সম্ভাব্য সামাজিক অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা আধুনিক আন্তর্জাতিক আইন ও সমসাময়িক ইসলামি ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই আইনি পরিবর্তনের ছায়া সবচেয়ে বেশি পড়ছে আফগান নারীদের জীবনে। বর্তমানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধ। অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি খাতে নারীদের কাজের সুযোগ নেই। পার্ক, জিম ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলেও তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতেও পরিস্থিতি সংকটজনক। অনেক এলাকায় নারী রোগীরা পুরুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, আবার নারী চিকিৎসকের সংখ্যাও দ্রুত কমছে। নারীদের মেডিকেল শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে এই সংকট আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও নারীদের উপস্থিতি কার্যত শূন্য। তালেবান প্রশাসনে কোনো নারী মন্ত্রী নেই, নির্বাচনী বা নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায়ও তাদের অংশগ্রহণ নেই।
একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং আইনি সুরক্ষার অভাবে বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক পরিবার দারিদ্র্যের চাপে অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনের ভাষায় এই পরিবর্তন শুধু প্রতীকী নয়, বরং আফগান সমাজে নারী ও নাগরিক অধিকারের পরিসর আরও সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।
