নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণপ্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে। দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে রেজা কিবরিয়া দাবি করেন, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দুর্নীতির আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যার কারণে বাংলাদেশ আইএমএফের নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। এমনকি বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচিতেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে সংস্থাটি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানকে ঘিরে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
রেজা কিবরিয়া আরও উল্লেখ করেন, যদি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করে ভবিষ্যতে দুর্নীতির ঝুঁকি রয়েছে, তাহলে তারা নতুন ঋণ তো দূরের কথা, বিদ্যমান ঋণ কার্যক্রমেও কঠোরতা আরোপ করতে পারে।
তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
সমালোচকদের মতে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিরোধ বা অতীতের অভিযোগকে সামনে এনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যাখ্যা করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না। তারা বলছেন, এমন মন্তব্য দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিনিয়োগ পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, আইএমএফের ঋণ অনুমোদন মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, রাজস্বনীতি, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ বিভিন্ন সূচকের ওপর নির্ভর করে। কোনো একক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে ঋণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে তারা এটাও স্বীকার করছেন যে, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের প্রতি আস্থার প্রশ্ন পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিকও নয়।
এদিকে, রেজা কিবরিয়ার এই বক্তব্য বিএনপির অভ্যন্তরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বিএনপি বা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি যখন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে দায়িত্বশীল ও পরিমিত বক্তব্যই পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে। অন্যথায় রাজনৈতিক বিতর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিকূল বার্তা দিতে পারে।
