নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। জাতিসংঘের এফএও (FAO) এবং ডব্লিউএফপি (WFP) কর্তৃক প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৬’ (২৪ এপ্রিল প্রকাশিত) অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তীব্র ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশই বসবাস করে মাত্র ১০টি দেশে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার হার বিগত বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ‘ক্রাইসিস লেভেল’ বা তার চেয়েও ভয়াবহ পর্যায়ের খাদ্য সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। আফগানিস্তান, ডিআর কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত বা চরম সংকটাপন্ন দেশগুলোর সারিতেই বাংলাদেশের অবস্থান।
জাতিসংঘের এই যৌথ মূল্যায়নে দেখা গেছে, বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তায় থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৬ লাখ কমলেও এই উন্নতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। বিশেষ করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার স্বল্পতা, আকস্মিক বন্যা এবং নতুন করে অনুপ্রবেশের ফলে খাদ্য পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। দেশের সামগ্রিক চাল উৎপাদন বাড়লেও পুষ্টির অভাব বা ‘লুকানো ক্ষুধা’ (Hidden Hunger) কাটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী বর্তমানে ৪৭টি দেশের প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে রয়েছেন। এর মধ্যে সংঘাত বা যুদ্ধকে ক্ষুধার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং চরম অর্থনৈতিক মন্দা বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও সংঘাত, অর্থনৈতিক চাপ এবং মানবিক সহায়তার অপ্রতুলতার কারণে সামগ্রিক খাদ্য পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বৈদেশিক সহায়তার অভাব এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকলে বাংলাদেশে এই সামান্য অগ্রগতিও যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ও মিয়ানমারে পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় পুরো অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
