ফোরটিন ডেস্ক : একটি নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সামরিক ঘাঁটিতে পা রেখেছিলেন নতুন বিবাহিত এক দম্পতি। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই দিনের মাথায় সেনাসদস্য স্বামীর সামনে থেকেই নববধূকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে ঘটা এই নজিরবিহীন ঘটনাটি প্রবাসী ও সামরিক পরিবারগুলোর মাঝে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তাঁর স্ত্রী অ্যানি রামোসের নতুন সংসারের বয়স ছিল মাত্র দুই দিন। পেশায় শিক্ষিকা অ্যানি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছেন। স্ত্রীর মিলিটারি আইডি কার্ড গ্রহণ ও সেনাবাহিনীর স্বজনদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা চালু করতেই স্বামীকে নিয়ে ফোর্ট পোল্কের ভিজিটর সেন্টারে যান তিনি। সেখানে নিজের পাসপোর্ট, বিয়ের সনদ ও স্বামীর আইডি জমা দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এই দম্পতি।
তবে অ্যানির নথিপত্র যাচাইয়ের পরপরই দৃশ্যপট বদলে যায়। ভিজিটর সেন্টারে আচমকাই উপস্থিত হন আইসিই কর্তারা। নববিবাহিত স্বামীর চোখের সামনেই অ্যানির হাতে পরাণো হয় হাতকড়া। মূলত অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তাঁর পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই সময় কোনো বুঝে ওঠার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে তৎকালীন আদালত দেশত্যাগের নির্দেশ বা ‘রিমুভাল অর্ডার’ জারি করে।
কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও এবং পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি লড়াই চালানো অবস্থায় তাঁকে এভাবে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের সুবিধার্থে বিদ্যমান নমনীয়তার বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণেই অ্যানিকে এই চরম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।
আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে সাময়িক মুক্তি দিলেও তাঁর পায়ে পরিয়ে দেওয়া হয়েছে নজরদারির জন্য জিও-ট্র্যাকিং বা জিপিএস মনিটর। শৈশব থেকে যাকে নিজের দেশ ভেবে বড় হয়েছেন, সেই দেশেই আজ পায়ে ট্র্যাকার বেঁধে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছেন এই সেনাবধূ।
