ফোরটিন ডেস্ক : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সমাবেশে চালানো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী আজ। দুই দশক আগের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী মারাত্মক আহত হলেও, দীর্ঘ ২২ বছর পর মামলাটির আইনি ও তদন্তগত ভিত্তি নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে প্রকৃত বিচার পাওয়ার পথ কীভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, তা পরবর্তীতে আদালতের রায়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০৮ সালে সিআইডি প্রথমে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিলেও, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতিভিত্তিক সম্পূরক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়। এই সম্পূরক চার্জশিটের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
তবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নেওয়া সেই অবৈধ রায় বাতিল করে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানান, সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত পুরো বিচার প্রক্রিয়াই ছিল আইনবহির্ভূত ও ত্রুটিপূর্ণ। যার ফলে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের সাজা বাতিল করে তারেক রহমান ও বাবরসহ সব আসামিকে সসম্মানে খালাস দেন।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এই খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করলেও ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের খালাসের রায়টিই বহাল রাখেন। আপিল বিভাগ রায়ে উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল পাওয়া যায়নি এবং আসামিদের নির্দোষ হিসেবে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্তই ন্যায়সংগত।
২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারানো নিরপরাধ মানুষের আত্মা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য শুরু থেকেই প্রয়োজন ছিল নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত। কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে মামলাকে ভিন্ন খাতে চালিত করার কারণে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে। দেশের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং সত্যনির্ভর তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এই জাতীয় ট্র্যাজেডির প্রকৃত অপরাধিদের চিহ্নিত করা সম্ভব।
