ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘একদমই ভালো না’ বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা।
শুক্রবার মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ফিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এমনটি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল থেকে ফিরে রাত ১টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেন, “এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এখনি ফিরলাম। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একদমই ভালো না। সবাই দোয়া করবেন উনার জন্য।”
ওই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক শেষে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেন, “আজ মেডিকেল বোর্ড বসেছিল। বোর্ড তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, পর্যালোচনা করেছে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা নিচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসও।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন শুনে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরাও হাসপাতালের সামনে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিলের পরে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে জানিয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
রোরবার ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস অফিস জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন বাংলাদেশ সরকারপ্রধান। প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।”
মায়ের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে ছেলে তারেক রহমানের ফেরার কথা থাকলেও ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে ৬ মে একাই দেশে ফেরেন।
এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।
