সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, দেশে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে মানুষের উদ্বেগ এখন চরমে। তাঁর ভাষায়, “উনার স্বাস্থ্য নিয়ে, উনার জীবন নিয়ে আজ সবাই গভীরভাবে চিন্তিত।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না কেন? মা এতটাই সংকটাপন্ন, তারপরও তিনি দেশে ফিরছেন না কেন? এর পেছনে কি ডিপ স্টেট কাজ করছে? ডিপ স্টেট আসলে কী? আজ হয়তো এ নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি।”
রবিবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বিশ্লেষণে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মাসুদ কামাল বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন যে তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা আছে। সেই স্ট্যাটাসে তারেক লিখেছেন, “এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও আছে। কিন্তু দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।” আরেক জায়গায় তিনি বলেন, “বিষয়টি স্পর্শকাতর, বিস্তারিত বলতে পারছি না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালেই আমি ফিরতে পারব।”
একদিকে সরকার বলছে তাঁর ফেরায় কোনো বাধা নেই। স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সরকারের প্রেস সেক্রেটারি ঘোষণা দেন যে তারেক রহমান চাইলে যেকোনো সময় দেশে ফিরতে পারবেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও মন্তব্য করেন, “তিনি যদি আজ সিদ্ধান্ত নেন, আমরা কালই ট্রাভেল পাস দেব।”
মাসুদ কামালের প্রশ্ন, “তাহলে জটিলতাটা কোথায়?”
তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিবিসি বাংলা সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তোলেন। জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, “দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব বসানোর জন্য বিদেশ থেকে অগণতান্ত্রিক তৎপরতা চলছে।” মাসুদ কামালের ভাষায়, “জয় স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই প্রক্রিয়াটি দেশীয় নয়, বরং এর নেপথ্য পরিচালনা বিদেশ থেকেই হচ্ছে।”
মাসুদ কামাল বলেন, রাষ্ট্রের ভেতরের তথ্য যাদের কাছে থাকে তারা দৃশ্যমান সংকেত না দেখেও অনেক কিছু বুঝতে পারেন। “আমরা হয়তো দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু তারা এমন কিছু দেখছেন যেটা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না।”
তিনি বলেন, “সরকার বলছে তারেক রহমানের ফেরায় কোনো বাধা নেই। রাষ্ট্রযন্ত্র বলছে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ট্রাভেল পাস একদিনেই দেওয়া যায়। তারপরও যেন একটা অদৃশ্য বাধা কাজ করছে। যেন কোথাও কিছু আটকে আছে যার কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা নেই।”
তার ভাষায়, “এই অদৃশ্য বাধাই ডিপ স্টেটের বৈশিষ্ট্য। ডিপ স্টেট এমন একটি শক্তি যাকে দেখা যায় না, কিন্তু সে আড়াল থেকে রাষ্ট্র চালাতে পারে। তার কর্মকাণ্ডে কোনো জবাবদিহিতা নেই, কিন্তু রাষ্ট্রের ওপর তার প্রভাব পড়ে। নির্দেশ কোথা থেকে আসে তা বোঝা যায় না, আর যারা পালন করে তারাও জানে না তারা কার স্বার্থ পূরণ করছে।”
তিনি বাংলাদেশের আগের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, “মানুষ হারিয়ে যেত, কোথায় গেল কেউ জানত না। পুলিশ বলত নেয়নি, র্যাবও বলত নেয়নি। সবই অদৃশ্য। এটাই ছিল ডিপ স্টেটের সবচেয়ে পরিষ্কার উপস্থিতি।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আইনের বাধা নেই, রাষ্ট্রের বাধা নেই, সরকারের বাধা নেই। তারপরও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না কেন? কেন তিনি নিজেই বলছেন এটি তাঁর একক সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়? কেন তিনি ‘স্পর্শকাতর বিষয়’ বলে ব্যাখ্যা এড়িয়ে যাচ্ছেন?”
মাসুদ কামালের মতে, “দৃশ্যমান রাজনীতি নয়, এখন অদৃশ্য রাজনীতিই শক্তিশালী।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আবারও কি সেই মাইনাস টু পরিকল্পনা ফিরে আসছে? দুই পরিবারকে রাজনীতি থেকে সরানোর প্রয়াস কি আবার সক্রিয়? আর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বন্ধ রাখাও কি সেই পরিকল্পনার অংশ?”
শেষে তিনি বলেন, “আমার উপলব্ধি হচ্ছে, ডিপ স্টেট এখন বাংলাদেশে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।”
