জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান বলেছেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান সরকারের অধীনে আমি কোনো নির্বাচন দেখি না।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো নির্বাচন হয়ও, সেটা হবে এক ধরনের ফার্সিকাল ইলেকশন।”
শনিবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি মন্তব্য করেন, “নির্বাচনের কী প্রস্তুতি আছে? সরকার কোন সদিচ্ছা দেখিয়েছে? রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের নির্বাচনী তৎপরতা দেখাচ্ছে? আমি কোনো লক্ষণ দেখি না।”
তিনি জানান যে গত চৌদ্দ মাসে অর্থনীতি, রাজনীতি এবং দেশের নিরাপত্তা যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তাতে ভোট আগেই হওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকার চাপের মুখে আসেনি এবং বিএনপিও যথেষ্ট চাপ তৈরি করেনি।”
এরপর তিনি তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে তারেক লিখেছিলেন যে দেশে ফেরা “শুধু তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না।” এই প্রসঙ্গে জিল্লুর বলেন, “আজ প্রথমবারের মতো তিনি পরিষ্কার করলেন কেন আসছেন না। তার ভাষায়, এমন কিছু বিষয় আছে যা অন্যদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।”
তিনি মনে করেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বিএনপির অনুকূলে নয়। “আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে, তবে ফেব্রুয়ারিতে আমি কোনো নির্বাচন দেখি না,” বলেন তিনি।
জিল্লুর দাবি করেন যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশ এক ধরনের থমথমে, উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিপজ্জনক পরিবেশে ঢুকে গেছে। তিনি বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কখনো দোহায়, কখনো যুক্তরাষ্ট্রে, কখনো দিল্লিতে ছোটাছুটি করছেন। পরের কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও ঘটনাবহুল হতে পারে।”
জিল্লুরের মতে, দেশে যদি একটি নির্বাচিত “জনগণের সরকার” থাকত তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
শেষে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন এবং বলেন, “তিনি আগের মতো রাজনীতিতে সক্রিয় নাও থাকতে পারেন, কিন্তু পরিবারের অভিভাবকের মতো তার উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।”
