লেখকঃআনিস আলমগীর
জাইমা রহমানের বাবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর খলিলুর রহমান তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি। এখন জাইমা রহমান খলিলুর রহমানের UNGA সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হয়েছেন।বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবং বাকি বাংলাদেশী যে ক’জনকে ওই অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদেরকে নিয়ে মিডিয়ায় কোনো আলোচনা নাই।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জাইমার জন্য প্রশ্নটা শুধু চাকরি পাওয়ার নয়- তিনি কোথায় কাজ করে কী শিখবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে জাইমা রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হন, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন ধারণা করা যায়। তার জন্য বাংলাদেশের আইন, আদালত, সংবিধান এবং দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেই দিক থেকে আমার প্রশ্ন হলো- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে কাজ করা, নাকি ঢাকার কোনো অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান আইনজীবীর চেম্বারে কাজ করে বাংলাদেশের আদালতে বাস্তব মামলা পরিচালনা দেখা- কোন অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বেশি প্রাসঙ্গিক?
জাতিসংঘের অফিসে কাজ করলে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনেক কিছু শেখার সুযোগ আছে। খলিলুর রহমান নিজেও জাতিসংঘে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
কিন্তু জাইমা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আইন ও রাজনীতিতে কাজ করতে চান, তাহলে বাংলাদেশের আদালত, আইনজীবী, বিচারপ্রক্রিয়া, সংবিধান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত আইনি বাস্তবতা শেখার অভিজ্ঞতার বিকল্পও নেই।
বিদেশে বেড়ে ওঠা একজন তরুণ আইনজীবীর জন্য নিউইয়র্কে এক বছর আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতি শেখা মূল্যবান হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝার জন্য ঢাকার আদালতপাড়া, আইনজীবীর চেম্বার এবং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা হয়তো আরও আলাদা ধরনের শিক্ষা দিতে পারে।
আমার প্রশ্নটা তাই জাইমা কোথায় চাকরি পেলেন, শুধু সেটা নয়।
তিনি যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবেন বলে অনেকে ধরে নিচ্ছেন, সেই বাংলাদেশটাকে তিনি কোথায় গিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে চিনবেন?
