নাসরীন সুলতানা
জামায়াতের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো আচরণ আমি অবশ্য প্রত্যাশা করি না। যারা একাত্তরে নিজ দেশের নারীদের নির্যাতনের সহযোগী হয়েছে, নিজ দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যার সহযোগী হয়েছে, ধর্মের নামে অধর্মের রাজনীতি করে তারা লাশ দাফনে বাঁধা দিবে এটা স্বাভাবিক।
২৪ না এলে জামায়েতের আসল রূপ জাতি কোনদিন দেখতে পেতো না। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা রকম প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে তারা নিজেদের মজলুম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে জনগণের সিম্প্যাথি আদায় করে। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে থাকে তখন তাদের মোনাফেকি বোঝা যায়।
জামায়েত ইসলামি ধর্মের নামে রাজনীতি করে, অথচ তাদের বুদ্ধিজীবীরা টকশোতে এসে মিথ্যাচার করে, জাতিকে ইতিহাস সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়। ইসলামে মিথ্যাবাদীর পরিণতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। জামায়াতের পরিণতি জামায়েত বুঝে উঠার আগেই ঘটে যাচ্ছে। তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ ছিল ২০২৬ এর নির্বাচন। আমি নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, “এই নির্বাচনে জামায়েত না জিতলে তাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে।” তাদের রাজনীতি তারা নিজেরা শেষ করছে।
জামায়েত এতদিন নিজেদের মানব দরদী দেশ প্রেমিক সৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ২৪ এর পরে তারা প্রমাণ করেছে তাদের কাছে বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের স্বার্থ বড়, তাদের আদর্শ পাকিস্তানের নেতা, তাদের কাছে বাংলা ভাষার চেয়ে উর্দু প্রিয়। তাদের স্লোগানের কোথাও বাংলাদেশ নেই, বাংলা নেই। সেই জামায়েত, একাত্তরের রাজাকার একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফন হতে বাঁধা দিবে, জানাজা পড়তে বাঁধা দিবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু সমস্যা শুধু জামায়েত একা নয়। এখানে সরকারের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নেতৃত্ব তারেক রহমানের হাতে, বিএনপি’র হাতে। অতএব, এই ঘৃণ্য কাজের দায় অবশ্যই বিএনপি এবং তারেক রহমানকে সারাজীবন বহন করতে হবে। কারণ, দিন শেষে জামায়াত এি কাজের দায় অস্বীকার করতে পারে। কারণ তারা সরকারের কেউ নয় (বিরোধী দলের যদি এত শক্তি থাকে, সরকারে থাকলে না যেন কী করতো!)।
এই ঘটনা থেকে আরো একটি শিক্ষনীয় বিষয় আছে। দিন পাঁচ বেলার নামাজ যেমন একা পড়া যায় তেমনি জানাজার নামাজ পড়া সকলের শেখা উচিৎ। প্রতিদিনের রান্না-বান্না, অর্থ উপার্জন, শিক্ষার মতো কবর খোঁড়ার কাজটিও একটি লাইফ স্কিলের পার্ট হওয়া উচিৎ। পিতামাতার জন্য সন্তানের দোয়া সবার আগে কবুল হয়। তেমনি মৃত ব্যক্তির নিকটতম পরিজনের জানাজায় বেশি সোওয়াব হয়। সুতরাং, এই মোনাফেক, ধর্মব্যবসায়ীরা জানাজা না পড়লেই বরং ভালো। তাতে জানাজার মতো পবিত্রতা রক্ষা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পাশারীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। মানিক পাশারীরা সেদিন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন বলেই আজ আমরা একটি পতাকা পেয়েছি। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, মানিক পাশারীরা ততদিন বেঁচে থাকবেন। আমরা তাঁদের ভুলবো না, পৃথিবী তাঁদের ভুলবে না।
