লেখা- রৌদ্র রুদ্র, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
রাজাকার সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধা: মধ্যরাতে ফোনের আলো জ্বেলে কবর খুঁড়লেন নারী স্বজনরা
অবৈধ বিএনপি সরকারের সাথে জামাতের আঁতাত আবারও প্রমাণিত। বিএনপি নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল? প্রজন্ম বলুক তারা কোন পক্ষের?
একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সেনানী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী চিরবিদায় নিয়েছেন। পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের এই গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন।
তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে বাদী ও সাক্ষী হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই বীর সেনার প্রয়াণে আমরা জানাচ্ছি গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা।
তবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, মৃত্যুর পরেও এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়নি জামায়াত-শিবিরের উগ্র চক্র। সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার ‘অপরাধে’ ৫ আগস্টের পর থেকেই পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হওয়া মানিক পশারীর মরদেহ নিজ জন্মভূমিতে দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জামায়াত নেতারা তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে স্পর্ধা দেখানোর সাহস পেয়েছে।
প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা ও চরম উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে একটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ আটকে রেখে শেষ পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রযন্ত্রের লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ ছাড়া কিছু নয়।
এমনকি বিএনপির ছত্রছায়ায় জামায়াত-শিবির চক্রের বাধার মুখে মধ্যরাতে মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর কবর খুঁড়তে হয়েছে তাঁর মেয়ে ও বোনকে—যা এক স্বাধীন দেশের মানচিত্রে পৈশাচিক বর্বরতা ও চরম লজ্জার এক ঘৃণ্য অধ্যায়।
একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এই জঘন্য রাজনীতি ও প্রতিহিংসা প্রমাণ করে, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত। বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগেই আজ রাজাকারের দোসররা এতদূর স্পর্ধা দেখানোর সাহস পাচ্ছে।
অবৈধ বিএনপি সরকারের সাথে জামাতের আঁতাত আবারও প্রমাণিত হলো এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে। রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলায় এই অপশক্তির যেকোনো চক্রান্ত ও আস্ফালনকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
