নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: অভিনয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা মো. জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবার নতুন পরিচয়ে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করলেন। নিউইয়র্কের জামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো তার ক্যারিয়ারের প্রথম লাইভ একক পারফরম্যান্স। আর প্রথম আয়োজনেই ছিল উপচেপড়া দর্শক, ছিল পূর্ণ মিলনায়তন ও দর্শকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই হলের প্রায় সব আসন পূর্ণ হয়ে যায়। অপূর্ব মঞ্চে ওঠার আগেই দর্শকদের হাতে হাতে দেখা যায় মোবাইল ফোন। প্রিয় অভিনেতাকে এবার অভিনয়ের বাইরে সরাসরি গান গাইতে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন উপস্থিত সবাই।

মঞ্চে ব্যান্ডের বাদ্যযন্ত্র বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। অভিনেতা হিসেবে পর্দায় অসংখ্য চরিত্রে দর্শকদের মুগ্ধ করা অপূর্ব এবার হাতে তুলে নেন মাইক্রোফোন। কোনো চরিত্রের সংলাপ নয়, কোনো ক্যামেরার সামনে অভিনয় নয়, সরাসরি দর্শকদের সামনে নিজের কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শামীম শাহেদ। তার প্রাণবন্ত ও আন্তরিক উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ করেন অপূর্বর পারফরম্যান্স।
কনসার্টে যোগ দেয় অপূর্বর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নায়িকারা। বিন্দু, মোনালিসা, নওশীন, নাফিজা, নোভা, তমালিকা কর্মকার মঞ্চে উঠে অপূর্বকে সাধুবাদ জানান, সাথে ছিলেন ইমন ও কাজী মারুফ।
তবে রাতের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে ‘বাবা’ গানটি পরিবেশনের সময়।
গান গাইতে গাইতে বাবার স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অপূর্ব। একপর্যায়ে মঞ্চেই ভেঙে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই উৎসবমুখর পরিবেশ নেমে আসে গভীর নীরবতায়। কিছুক্ষণ আগে যারা গান গেয়ে, হাততালি দিয়ে প্রিয় তারকার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছিলেন, তারাই নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন অপূর্বর আবেগের সাক্ষী হয়ে।
বাবাকে স্মরণ করে অপূর্বর সেই আবেগ ছুঁয়ে যায় উপস্থিত দর্শকদেরও। অনেক দর্শককে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। মুহূর্তটি যেন একটি সাধারণ কনসার্টের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে ওঠে ভালোবাসা, স্মৃতি ও হারানোর বেদনার এক অনন্য প্রকাশ।
অভিনেতা হিসেবে পর্দায় নানা চরিত্রে আবেগ প্রকাশ করেছেন অপূর্ব। কিন্তু নিউইয়র্কের এই মঞ্চে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নিজের মতো। কোনো চরিত্রের আড়ালে নয়, কোনো দৃশ্যের প্রয়োজনে নয়, নিজের বাবার স্মৃতিকে সামনে রেখে একজন সন্তানের আবেগ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
অপূর্বর এই প্রথম লাইভ একক পারফরম্যান্স তাই শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা হয়ে থাকেনি। দর্শকদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে তার শিল্পীজীবনের একটি স্মরণীয় অধ্যায়। আর ‘বাবা’ গানটি পরিবেশনের সেই আবেগঘন মুহূর্তই হয়ে থাকবে নিউইয়র্কের এই রাতের সবচেয়ে আলোচিত ও স্মরণীয় অংশ।
