ফোরটিন ডেস্ক : ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো বিতর্কিত ‘হেলমেট বাহিনী’ আসলে ছাত্রশিবিরের ছদ্মবেশী ক্যাডার বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ধ্বংস করতে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতে তারা এই চক্রান্ত বাস্তবায়নে নেমেছিল।
বিগত আট থেকে দশ বছর ধরে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র অবস্থান ও জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী নতুন কৌশলের আশ্রয় নেয়। ছদ্মবেশে সংগঠনে প্রবেশ করে অপ্রীতিকর সহিংসতা ঘটিয়ে ছাত্রলীগকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা ছিল তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জারি রেখেছিল। তবে পরিচয় গোপন রেখে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালানো এসব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পুলিশের বিভিন্ন তদন্ত বিভাগ হেলমেট পরা হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করেছে। প্রকৃত হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২২ সাল থেকে শিবিরের ক্যাডাররা কৌশল বদলে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ঢাবি, রাবি ও চবিসহ প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান বাগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারাই আন্দোলন চলাকালে হেলমেট পরে হামলা চালিয়ে ঘটনাগুলোকে ছাত্রলীগের নামে চালিয়ে দেয়।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা জানান, “আমাদের সংগঠনে কিছু কর্মী নিজের উদ্যোগে লীগার প্রমাণ করতে চেষ্টা করত, তদন্তে দেখা যাচ্ছে তাদের বড় অংশই আসলে শিবিরের ছদ্মবেশী ক্যাডার ছিল।”
রাজনীতি বিশ্লেষক ড. সাদিক আহমেদ বলেন, “পরিকল্পিতভাবে শিবির ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেছিল এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রলীগকে হিংস্র বাহিনী হিসেবে উপস্থাপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ছদ্মবেশী নেতা তাঁদের আসল শিবির পরিচয় প্রকাশ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মিথ্যা দায় চাপিয়ে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের চরিত্রহননের চক্রান্তের বিচার দাবি করেছেন সাবেক ছাত্রনেতারা।
আইনবিদ ও সচেতন নাগরিক সমাজ অনতিবিলম্বে এক নিরপেক্ষ স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে হেলমেট বাহিনীর সঠিক পরিচয় উন্মোচন করে মূল ষড়যন্ত্রীকারীদের বিচারের সোপর্দ করার আইনি দাবি জানিয়েছেন।
