ফোরটিন ডেস্ক : আমেরিকার নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটসহ ত্রি-স্টেট অঞ্চলজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের শরতের রঙিন পাতার মৌসুম। ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের আপস্টেট এবং অ্যাডিরনড্যাকস পাহাড়ি এলাকার বনাঞ্চলে গাছের সবুজ পাতায় লাল, হলুদ ও কমলার মোহনীয় ছোঁয়া ফুটে উঠতে শুরু করেছে।
উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ২২ সেপ্টেম্বরের শরৎ বিষুবের মাধ্যমে প্রকৃতির এই রূপান্তরের সূচনা ঘটে। আগামী অক্টোবর মাসজুড়ে ত্রি-স্টেট এলাকার পার্ক ও বনাঞ্চলে শরতের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও বর্ণিল রূপ দেখার জন্য লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে।
প্রাকৃতিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন পরিবেশ সংস্থা এবং বনাঞ্চল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ট্রেইলগুলোর সাপ্তাহিক মানচিত্র প্রকাশ করছে। আই লাভ নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটের পরিবেশ বিভাগ পর্যটকদের সুবিধার জন্য পাতার রঙ বদলের লাইভ হালনাগাদ ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্র প্রকাশ করার আইনি বিধান বহাল রেখেছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পর্যটন বিভাগ ও নিউ ইংল্যান্ড ফরেস্ট্রি কমিশন যৌথভাবে মৌসুমের এই বিশেষ পর্যটন খাত তদারকি করছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে স্মোকি মাউন্টেনস প্রেডিকশন ম্যাপ ও স্থানীয় পার্ক রেঞ্জারদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহের হালনাগাদ পূর্বাভাস নির্দেশিকা জারি রাখা হয়েছে।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, হেমন্তে সূর্যালোক কমে আসায় পাতায় বিদ্যমান সবুজ ক্লোরোফিল ভেঙে যায়। ক্লোরোফিল ক্ষয় হলে পাতায় জমে থাকা ক্যারোটিনয়েড ও শর্করা রাসায়নিক বিক্রিয়া করে হলুদ, কমলা ও গাঢ় লাল রঙের অনন্য আভা ফুটিয়ে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবেশবিদরা জানান, “শরতে সূর্যের আলো কমার সাথে সাথে ক্লোরোফিলের ক্ষয় গাছের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্যান্য বর্ণিল রঞ্জক পদার্থকে ফুটিয়ে তোলে।”
তারা পর্যটকদের উদ্দেশ্যে আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝিতে পরিকল্পনা করলে নিউ ইংল্যান্ড ও হোয়াইট মাউন্টেন এলাকায় প্রকৃতির সেরা রূপ উপভোগ করা যাবে।”
শরতের এই চমৎকার রূপান্তর দেখতে ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বিভিন্ন স্টেট পার্ক ও পর্বতমালায় ট্র্যাকিং ও ভ্রমণের দারুণ উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
স্থানীয় পরিবেশ বিভাগ আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রতি সপ্তাহের ওয়েদার আপডেট ও পাতার রঙের পরিবর্তনের সঠিক তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ অব্যাহত রাখবে।
