ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন এবং সুরক্ষাহীনতা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এ ধরনের সহিংসতা জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য চরম হুমকি।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আমেরিকার উদ্যোগে ‘নিপীড়নের কোনো জয় নেই’ শীর্ষক সেমিনারটি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক মৃন্ময় সমদ্দার এবং ঐক্য পরিষদের বোর্ড অব গভর্নর্স-এর চেয়ারপারসন অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার।
নিউইয়র্কের স্থানীয় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রবন্ধের সুপারিশসমূহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আমেরিকার নীতিগত পরিচালনা পর্ষদ সেমিনারের বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করেছে। প্রবাসে অবস্থানরত প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ব জনমত তৈরির আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সেমিনারে লেখক, অধ্যাপক এবং আইনবিদসহ নানা পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গবেষণায় উঠে আসে, ১৯৭২ সালের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের পর থেকে বাবরি মসজিদ পরবর্তী হামলা এবং ২০২৪-এর পরবর্তী ঘটনাবলি একটি ঐতিহাসিক ধারার অংশ।
সেমিনারে লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেন, “বাংলাদেশি হিন্দুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন এবং ইসলামিক ফান্ডামেন্টালিস্টদের ক্রমাগত হামলা ও নিপীড়নের মুখে তারা তাদের প্রাচীন ভিটেমাটি এবং জন্মভূমি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি দাস জানান যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত নির্যাতনে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছ না। অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার মন্তব্য করেন যে, বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার ক্রমাগত কমে যাওয়া এবং প্রবাসে নতুন প্রজন্মের বিচলিত হওয়া প্রবাসীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। সেমিনারে বিশ্বনেতৃত্বকে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নিশ্চিতকরণে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে গৃহীত প্রস্তাবনা ও প্রবাসীদের দেওয়া সুপারিশমালা নিয়ে পরবর্তীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
