ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত ১২ মাসের ব্যবধানে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এটি তৃতীয়তম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক।
অন্যান্য ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে সমালোচনায় মুখর থাকলেও মেয়র মামদানি শহরের স্বার্থে এই আলোচনার সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় আইনি নির্দেশিকা এবং মেয়র কার্যালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। শহরের নাগরিক সেবার মান বাড়াতে সরকারি তহবিল ব্যবস্থার আইনি পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও নিউইয়র্ক সিটি অথরিটি যৌথভাবে শহরের বড় অঙ্কের আবাসন উন্নয়ন তহবিল ছাড়করণ সম্পর্কিত আইনি প্রক্রিয়া তদারকি করবে। আলোচনায় অনুমোদিত প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়নের প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যালয় ও হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা বৈঠকে মেয়রের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবিত বৃহৎ আবাসন প্রকল্পে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ ইতিবাচক সায় প্রদান করেন।
মেয়র মামদানি বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে বলেন, “শহরের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য, তাই এই আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও শহরের উন্নয়নের সার্বিক স্বার্থে পারস্পরিক এই কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনের স্মৃতিচারণ করে মেয়রের আবাসন ও নাগরিক উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক শহরের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ও তীব্র আবাসন সংকট সমাধানে ভিন্ন দুই মেরুর শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা।
উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রথম এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার তাদের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
