নিজস্ব প্রতিবেদন : আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে ভাইয়ের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পুলিশের অফিসিয়াল ইউনিফর্ম পরে অংশ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দিয়েছে সরকার।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর করা এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনের বিবরণীতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র প্রত্যাশী (মনিরুজ্জামানের ছোট ভাই) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। সেই সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ফুল ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এমন শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, নির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা এবং জনসম্মুখে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দেন, তবে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত বোর্ড আনীত অভিযোগগুলোর শতভাগ সত্যতা পায়। এর প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হলেও তিনি আর কোনো জবাব দেননি। সামগ্রিক নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই সিদ্ধান্তের সাথে পূর্ণ একমত পোষণ করে। সর্বশেষ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ‘অসদাচরণ’ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এই গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১১ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বেচ্ছায় অবসর চেয়ে একটি নজিরবিহীন আবেদনপত্র জমা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই অতিরিক্ত ডিআইজি।
