নিজস্ব প্রতিনিধি : সচিবালয়ে টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে ল্যাপটপ চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর (সচিব পদমর্যাদা) একান্ত সচিবের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপটি প্রকাশ্য দিবালোকে ভবন থেকে হাওয়া হয়ে যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬ তলা থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি চুরি হয়। ভুক্তভোগী নাদিম প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই ভবনের একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দফতরও রয়েছে। ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জোনে এমন চুরির ঘটনায় পুরো মন্ত্রণালয় জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলামের কক্ষে প্রবেশ করেন তাঁর পিএস ইমামুল হাফিজ। মাত্র পাঁচ মিনিট পর নিজের কক্ষে ফিরে এসে তিনি দেখেন টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি আর নেই।
কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সময় ওই তলায় বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষের বাইরে বেশ লোকসমাগম ছিল। পরবর্তীতে পুরো ভবনে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তবে ভবনের নিরাপত্তা কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লু খুঁজে পেয়েছেন। ফুটেজে দেখা যায়, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই দপ্তর থেকে তড়িঘড়ি করে বের হচ্ছেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই কালো ব্যাগের ভেতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি লুকিয়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ডিভাইসে মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু গোপন ও সংবেদনশীল নথি থাকতে পারে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভবনের ১৬ তলার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। লিফট থেকে নেমেই কোনো রকম নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই সরাসরি করিডোরে প্রবেশ করা যায়। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী আসায় এই ভিড়ের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা উপস্থিত সবার ব্যাগ তল্লাশি করেছি। তবে আমাদের জনবল খুবই সীমিত—মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য পুরো ভবনের দায়িত্বে আছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে চুরির এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
