আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের দেশ ইতালির রোমে প্রকাশ্যে ধোলাই খাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করা সাবেক শিবির নেতা ও বিতর্কিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ভ্লগার বনি আমিনকে ঘিরে বের হয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রোমের রাস্তায় প্রবাসীদের হাতে গণপিটুনি খাওয়ার ঠিক দুদিন আগেই তিনি একটি অনলাইন গণমাধ্যমের ইনবক্সে গিয়ে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বেলুচিস্তানি স্বাধীনতাকামীদের হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৪৫ সদস্য নিহত হওয়ার একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিল দেশের একটি অনলাইন গণমাধ্যম। সেই সংবাদ দেখে ক্ষিপ্ত হন গুপ্ত সংগঠন শিবিরের সাবেক এই নেতা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা রাখা ও পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী ইসলামী ছাত্রসংঘের (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির) সাবেক এই ক্যাডার পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের প্রতি আনুগত্য থেকেই এমন উসকানিমূলক আচরণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদ প্রকাশের পর সংক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৯ জুলাই উক্ত অনলাইন গণমাধ্যমের ইনবক্সে গিয়ে বনি আমিন লেখেন, “এই শুয়রের বাচ্চা তোদের অফিসের ঠিকানা দে। বেলুচিস্তান স্বাধীন করবি তাইনা…? একদম পিছন দিয়ে ভরে দেব স্বাধীনতা।” তবে গণমাধ্যমটির পক্ষ থেকে তাঁর এই কুরুচিপূর্ণ বার্তার কোনো প্রতিউত্তোর দেওয়া হয়নি।
এই হুমকি দেওয়ার ঠিক দুদিন পর, গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) রাতে ইতালির রোমের প্রবাসী অধ্যুষিত তরপিনাতারা এলাকার ব্যস্ত রাস্তায় বনি আমিনকে প্রকাশ্যে পেটান একদল প্রবাসী বাংলাদেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বনি আমিনকে জড়িয়ে ধরলে তিনি কৌশলে নিজেকে মুক্ত করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করে রাস্তার পাশে পার্ক করা একটি গাড়ির সামনে আছড়ে ফেলে ক্রমাগত লাথি ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
ভিডিওর অডিও ক্লিপে আক্রমণকারীদের স্পষ্ট বাংলাদেশি আঞ্চলিক ভাষায় গালাগাল করতে এবং বনি আমিনকে বারবার ‘মৌলবাদী’ আখ্যা দিয়ে মারধরের উসকানি দিতে শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় বনি আমিন অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে রোম পুলিশ বা ইতালীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের পরিচয় বা মূল কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের সন্তান বনি আমিন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উসকানিমূলক ও বিতর্কিত কনটেন্ট তৈরি করা ছাড়াও বিভিন্ন সময় নারীদের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ বানিয়ে নিজ চ্যানেলে প্রচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রোমের রাস্তায় তাঁর ওপর হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ‘দেশবিরোধী’ এই ভ্লগারকে উপযুক্ত শিক্ষাদানের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
