আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও দেশে ফিরে আদালতে হাজির হওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো মারাত্মক ঝুঁকি থাকার কথা স্বীকার করেও ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে দেওয়া নিজের সাজাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা।
জাপানি সংবাদ মাধ্যম কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ লিখিত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বাংলাদেশে ফিরে যাব এবং আদালতের মুখোমুখি হব।” কোন নির্দিষ্ট আদালতে তিনি উপস্থিত হবেন তা স্পষ্ট না করলেও তিনি আরও যোগ করেন, “তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে, এমনকি ফাঁসি দেওয়ার চেষ্টাও করতে পারে। আমি সেই সব ঝুঁকির কথা জেনেই বলছি।”
২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪-এর আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে তাঁকে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ পাঠিয়েছে, যা দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তরিক এবং তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ আইনি সুযোগ দেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে শেখ হাসিনা আদেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, “যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করেন যে কীভাবে কার মৃত্যু হয়েছে এবং কোন অস্ত্র বা গুলিতে প্রাণহানি ঘটেছে, তবেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব।” অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে চালানো এই বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁর শাসনামলে ঘটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঠিক জবাবদিহিতার তাগিদ দিয়েছে।
বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বিষয়ে আলো ফেলে শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন, “একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ শুধু দেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল এবং জাপানসহ সমস্ত উন্নয়ন সহযোগীদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “দেশকে এখন সারিয়ে তোলা প্রয়োজন, তবে পুনর্মিলন বা বোঝাপড়া মানে অপরাধের পারাপার পাওয়া হতে পারে না। আগামী দশক হতে পারে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের দশক, তবে তা কেবল তখনই সম্ভব যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পাবে।”
