নিজস্ব প্রতিবেদন : বাগেরহাট শহরে ভোররাতে হঠাৎ গোপন মিছিল ও রাজনৈতিক শো-ডাউনের চেষ্টাকালে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই, ২০২৬) সকালের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাট শহরের অতি পরিচিত রেলরোড এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ তাদের হাতেনাতে আটক করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার চালতাবুনিয়া গ্রামের লিটন চাপরাশি (২২), গুলিশাখালী গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম (২১), গুয়াতলা গ্রামের শাহিন ফকির ও নাজমুল তালুকদার ওরফে শাকিল (১৯), হাসান হাওলাদার (৩৩), বারুইখালী গ্রামের শামিম হোসেন ও নাজমুল হাসান (১৯), পায়লাতলা গ্রামের রাতিন ইসলাম হৃদয় (১৯), শ্লোমবাড়িয়া গ্রামের সিরাজ শেখ ওরফে ফিরোজ (১৯), আরিফুল ইসলাম (১৯), রিয়াদ শেখ (১৯), হাবিবুল্লা খান (১৯), মধ্য বিষারিঘাটা গ্রামের মাহিম হাওলাদার (১৯), সেজদারবাড়ি গ্রামের মেঘনাথ মালি, বহরবুনিয়া গ্রামের সদমিন ফাহিম (২০), গাবতলা গ্রামের রাব্বি তালুকদার এবং বরগুনা সদরের ফুলঝুরি এলাকার অংকুর মালি।
বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রেলরোড এলাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জনের একটি দল একত্রিত হয়ে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চারদিক ঘিরে ফেলে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ১৭ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। তবে কৌশলে আরও ২৫-৩০ জন অন্ধকার ও গলি বেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনার পর বাগেরহাট মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা করেন। মঙ্গলবার বিকেলেই গ্রেফতার ১৭ জনকে কড়া নিরাপত্তায় বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঝটিকা মিছিলের সময় ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মিছিলের নামে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। পালিয়ে যাওয়া অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
