হুমায়ূন কবীর ঢালী
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। সেদিন সারা ঢাকা শহর ছিল উত্তাল। সকাল থেকেই রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হতে থাকে। কারণ একটাই—পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের পূর্ব পাকিস্তানের জন্য প্রণীত আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক নীতির দ্বন্দ্ব-সংঘাত-অভিঘাতের প্রতিক্রিয়ায় বাঙালিদের মনে যে নতুন জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়, তারই ফলশ্রুতিতে গড়ে ওঠে বাঙালি জাতীয়তাবাদভিত্তিক স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন। এই আন্দোলন ভেতরে ভেতরে শাণিত হয় স্বাধীনতার চেতনাদীপ্ত স্বাধিকার আন্দোলনে, যার নেতৃত্বে ছিলেন বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত তিনিই পশ্চিম পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসকদের শোষণ, নির্যাতন ও একগুঁয়েমির বিরুদ্ধে প্রতিটি বাঙালির চেতনাকে শাণিত করেন এবং স্বাধিকারের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে তোলেন। পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় শাসকদের বিরুদ্ধে একের পর এক সভা-সমাবেশ, আন্দোলন, হরতালের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে আসে ৭ মার্চ। জনসমুদ্রের সেই উত্তাল ঢেউ সেদিন রেসকোর্স ময়দানে আছড়ে পড়েছিল।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য
দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ শেষে ইউনেস্কো ২০১৭ সালের অক্টোবরে ৭ মার্চের ভাষণকে “ডকুমেন্টারি হেরিটেজ” (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই ভাষণটিসহ মোট ৭৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথিকে একই সাথে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউনেস্কো পুরো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিলকে সংরক্ষিত করে থাকে। ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে (এমওডব্লিউ)’ ৭ মার্চের ভাষণসহ এখন পর্যন্ত ৪২৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগৃহীত হয়েছে।
নিরস্ত্র থেকে সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তর
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ তাঁর ‘নিরস্ত্র বাঙালির সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তর হওয়ার প্রেরণা’ প্রবন্ধে লিখেছেন:
“সাতই মার্চের সেই দিনটির কথা ভাবলে কত অবাক হই। বঙ্গবন্ধু সেদিন নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র বীরের জাতিতে পরিণত করেন। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে ছুটে আসা ১০ লাখেরও বেশি জনতা যেন ছিল প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একেকজন দূত। নেতা জানতেন তাঁর মানুষের ভাষা। জনগণ বুঝত তাঁর ইশারা। তাই জাতি সেদিনই নেতার ডাক পেয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে।”
তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন। একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাঁকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয়, সেদিকেও তাঁর সতর্ক দৃষ্টি ছিল। তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি। তাঁর এই সতর্ক কৌশলের কারণেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই জনসভার ওপর হামলা করার প্রস্তুতি নিলেও তা করতে পারেনি।” এমনকি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে শেখ মুজিবকে ‘চতুর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, “শেখ মুজিব কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গেল, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না।”
সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ও অমর বাণী
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আসার কথা ছিল দুপুর দুইটার দিকে। তাঁর সামান্য বিলম্বের কারণে উত্তাল জনতার মধ্যে একধরনের শঙ্কা ও টানটান উত্তেজনা কাজ করছিল। আওয়ামী লীগের নেতারা ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গান গেয়ে জনতাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন। অতঃপর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আসেন এবং বাঙালির চিরন্তন আবেগমথিত সুরে শুরু করেন তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা:
“ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।…”
এবং শেষ করেন এক অমোঘ ঘোষণার মাধ্যমে:
“…কিন্তু যদি এই দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালিরা বুঝেশুঝে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”
বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, বরং পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে পরিগণিত। কবি নির্মলেন্দু গুণ একে বলেছেন একটি ‘মহাকাব্য’।
৭ মার্চ নিয়ে নির্মলেন্দু গুণ তাঁর বিখ্যাত কবিতা “স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো”-এ কবি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধুর আগমন এবং তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণকে এক অপূর্ব কাব্যে রূপ দিয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ‘কবি’ এবং তাঁর ভাষণকে ‘অমর কবিতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা লাখো মানুষকে মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
কবিতাটির কিছু উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
“একটি কবিতা লেখা হবে, তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’
…
“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
…
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’”
কবিতাটিতে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের এক অসাধারণ দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে।
এই ভাষণকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ১৮৬৩ সালের বিখ্যাত গেটিসবার্গ বক্তৃতার সঙ্গে তুলনা করা হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’–অমর এ গানের রচয়িতা, গীতিকার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সাহিত্যিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মতে, লিংকনের ‘গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল’ যেমন গণতান্ত্রিক চেতনার মর্মবাণী, বঙ্গবন্ধুর ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ কথাটিও তেমনি সারা দুনিয়ার নির্যাতিত মানুষের মুক্তিমন্ত্র।
শিক্ষাবিদ হারুন-অর-রশিদের ভাষায়, “অপূর্ব শব্দশৈলী, বাক্যবিন্যাস ও উপস্থাপনা। একান্তই আপন, নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।” লেখক-গবেষক শামসুজ্জামান খান একে ১৯ মিনিটের এক বিস্ময়কর নির্মেদ বক্তৃতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে’ বইতে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না করলেও জনগণকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বস্তুত এটি ছিল যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ১নং সেক্টর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ৭ মার্চের ভাষণকে একটি কালজয়ী ও নির্দেশনামূলক ভাষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সরাসরি আহ্বান জানিয়েছিল। তার মতে, এই ভাষণের পর নতুন কোনো নির্দেশের প্রয়োজন ছিল না; এর পূর্বের নির্দেশ মোতাবেকই ‘একটি গুলি চললেই প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হবে’—এই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের ভাষ্য ও “লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে” বইয়ের তথ্য অনুযায়ী ৭ মার্চ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো:
এই ভাষণের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বেসামরিক শাসন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল এবং অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
সামরিক প্রস্তুতি: ভাষণের পর বঙ্গবন্ধু যখন আলোচনার নামে সময় নিচ্ছিলেন, তখন বাঙালি অফিসার হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে (ইপিআর-এ) প্রতিরোধ যুদ্ধের পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন।
স্বাধীনতার বার্তা: তিনি মনে করেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্পষ্টভাবেই স্বাধীনতার মূল বার্তা দিয়েছিলেন, যা একজন সৈনিককেও যুদ্ধে উদ্দীপিত করেছিল।
তিনি মনে করেন, ৭ মার্চের ভাষণই ছিল মূলত স্বাধীনতার মূল মন্ত্র, যা জাতি ও সামরিক বাহিনীকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছিল।
১৯৭৪ সালে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে জিয়াউর রহমান তাঁর মূল্যায়ন তুলে ধরেছিলেন। তিনি সেখানে লিখেছিলেন—
“৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রিন সিগন্যাল (সবুজ সংকেত) হিসেবে এসেছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমাদের চূড়ান্ত সংগ্রামের সময় ঘনিয়ে এসেছে।”
জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন যে, এই ভাষণের পর থেকেই বাঙালি সৈনিকদের মধ্যে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র প্রস্তুতির মানসিকতা দৃঢ় হয়। সেই লেখায় তিনি স্বীকার করেন যে, বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রকণ্ঠের আহ্বানে পুরো জাতি যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
জিয়াউর রহমানের এই নিবন্ধটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, কারণ এটি একজন সরাসরি রণক্ষেত্রের কমান্ডারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ৭ মার্চের ভাষণের প্রভাবকে ব্যাখ্যা করে।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক ডঃ আলাউদ্দিন আল-আজাদ তাঁর ‘ফেরারী ডায়েরী’ বইতে লিখেছেন, “মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দলিল… যেন কোনো ব্যক্তি নয়, একটা আলোড়িত জাতির মর্মমূল থেকে এই ভাষণের উৎপত্তি।” শিল্পী হাশেম খানের মতে, “ভাষণের প্রতিটি বাক্য যেন এক একটি শক্তি সেল, সাহস ও প্রেরণার কবিতা।”
অসহযোগ আন্দোলন থেকে ২৫ মার্চের কালরাত
৭ মার্চের ভাষণের পরপরই পূর্ব বাংলার জনগণ ইয়াহিয়া খানের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে। ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন এবং ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চলে। এই বৈঠকের মূল দাবি ছিল:
- ক) সামরিক শাসন প্রত্যাহার।
- খ) নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর।
- গ) ছয় দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসন।
কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে কোনো মীমাংসা ছাড়াই ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। শুরু হয় ইতিহাসের কলঙ্কিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’। পাকবাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গণহত্যা শুরু করে।
আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা
২৫ মার্চের রাত বারোটার পর (অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। চট্টগ্রামে বার্তাটি গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম। ২৬ মার্চ দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেডিও স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধুর নামে প্রথম ঘোষণাটি পাঠ করেন এম এ হান্নান।
বঙ্গবন্ধুর প্রেরিত সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা:
“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh, wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”
— Sheikh Mujibur Rahman, 26 March 1971
মেজর জিয়ার কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ
পরদিন ২৭ মার্চ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই তদানীন্তন মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণাটি ইংরেজিতে পাঠ করেন। তাঁর এই ঘোষণাটি যুদ্ধের সংবাদ বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে:
“I, Major Ziaur Rahman, do hereby declare on behalf of our great national leader Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, the independence of Bangladesh. I also declare that we have already formed a revolutionary government under the leadership of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman with his headship as the President of the Sovereign Independent State of Bangladesh…”
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বাংলার সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
উপসংহার
৭ মার্চের ভাষণ ছিল একটি জাতির যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মানসিক শক্তির উৎস, আর ২৬ মার্চের ঘোষণা ছিল চূড়ান্ত আঘাতের আদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) এবং ১৭ এপ্রিল তা শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই অমোঘ বজ্রকণ্ঠ এবং স্বাধীনতার সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাগুলোই আজ পৃথিবীর বুকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।
