লেখকঃ নাসরীন সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
অনেক বাবা-মা কি ছেলেমেয়েদের বোর্ডিং স্কুলে রেখে পড়ায় না? কওমি মাদরাসায় ছোট ছোট বাচ্চারা কী পরিমাণ নির্যাতিত হয়! তারপরও মা-বাবারা আদরের সন্তানকে কওমি মাদরাসায় দেয়। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে হলে থেকে পড়াশোনা করে। বিদেশে গেলে তো কয়েক বছরের জন্য দেখা হয় না।
আমি সেই যে SSC পরীক্ষার পর বাড়ি ছেড়েছি, আর বাড়ি নিজের হয়নি। ৩০ বছর ধরে নিজের শোবার ঘর, বাড়ি এখন বেড়ানোর জায়গা হয়ে গেছে।
সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য উন্নতমানের আবাসন তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এই আবাসনে তিন ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রথম ধরন হবে লাক্সারি, যাতে উন্নতমানের দুটি শোবার ঘর, কিচেন, বারান্দা, ওয়াশরুম সব থাকবে। তারা চাইলে ভিজিটর রাখতে পারবে। এগুলো হবে অ্যাপার্টমেন্ট সিস্টেম।
দ্বিতীয় ধরনটি হবে ১ বেড, ১ বাথ, ১ কিচেন সিস্টেম। তৃতীয় ধরন হবে দুজনের শেয়ার্ড বাথ এবং কিচেন সিস্টেম। তা ছাড়া চারজন করে একটি কমন ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, যাদের সামর্থ্য একেবারে কম তাদের জন্য।
প্রত্যেকের জন্য একটি আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, খাট থাকবে। কেউ চাইলে এক্সট্রা ফার্নিচার কিনে নিতে পারবে।
একটি কমন ডাইনিং থাকবে, যেখানে অর্ডার দিয়ে খাবার খাওয়া যাবে। আবার কেউ চাইলে নিজের মতো রান্না করে খেতে পারবে।
প্রতি চার রুমের জন্য একজন করে অ্যাটেনডেন্ট থাকবে। প্রতি ফ্লোরে একজন সুপারভাইজার থাকবে, যার কাজ হবে অ্যাটেনডেন্ট ঠিকমতো কাজ করে কিনা তা তদারকি করা।
একটি ছোট হাসপাতাল থাকবে এবং প্রতিদিন ডাক্তার বসবেন। কারো গুরুতর সমস্যা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা যায়, তার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।
হোমে বাগান থাকবে, বিভিন্ন কাজের সুযোগ রাখা হবে। কেউ চাইলে ১/২ ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। তাদের জন্য বিভিন্ন ইনডোর এবং আউটডোর গেমের ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিটি রুমে বিনোদনের জন্য টিভি থাকবে। এ ছাড়া তাদের জন্য কিছু ছোট ছোট বিনোদনমূলক আয়োজন করা হবে।
এমন একটি হোম যদি সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য করা হয়, সেখানে থাকতে কার আপত্তি থাকবে?
