নিজস্ব প্রতিনিধি : বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে জারি করা বিতর্কিত ‘কালো আইন’ ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দেশের বেসরকারি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতি আজ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের তোয়াক্কা না করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর যে জুলুম চালানো হয়েছিল, তার বিষময় ফল এখন ভোগ করছে দেশের আর্থিক খাত।
ড. ইউনূসের শাসনামলে সবচেয়ে বড় কালো আইন ছিল আন্ডার কাভার তদন্তের নামে হয়রানি এবং বিচার ও প্রমাণ ছাড়াই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোক করার কালো বিধান। এই দানবীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষের ব্যাংক হিসাব অবৈধভাবে ফ্রিজ করা হয়। শুধু তাই নয়, চার্জশিট বা বিচার ছাড়াই প্রায় ১ হাজার শিল্পপতি ও উদ্যোক্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ৫৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করা হয়। এর ফলে ব্যবসায়ী মহলে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, বহু কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে বেকার হয়ে পড়ে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর কোথাও এমন নিকৃষ্ট ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি আইন নেই। পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানেও আদালতের রায় কিংবা চার্জশিট ছাড়া কারও সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ করা যায় না। এমনকি যুক্তরাজ্যের ‘প্রসিডিংস অব ক্রাইম অ্যাক্ট’ বা ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ীও এভাবে অন্তহীন মেয়াদে চলাফেরার স্বাধীনতা হরণ করা স্পষ্ট অপরাধ। ড. ইউনূসের এই কালো আইন মূলত বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায়ের (৭৪ ডিএলআর) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পরবর্তীতে বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জনবান্ধব বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই জনবিরোধী কালো অধ্যাদেশটি প্রত্যাখ্যান করে তা পুরোপুরি বাতিল করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১১ এপ্রিল থেকে বিতর্কিত এই আইনটি কার্যকারিতা হারিয়ে আগের মূল দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই সঠিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আইন ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।
তবে ড. ইউনূসের সেই কালো আইন বাতিল হলেও তার অধীনে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় ও মূলধারার ব্যবসায়ীরা এখনো পুরোপুরি মুক্তি পাননি। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ থাকার কারণে সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, উত্তরা ব্যাংক ও বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতো দেশের শীর্ষ ও শক্তিশালী ৪৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনতিবিলম্বে ড. ইউনূসের আমলের এই চরম অন্যায়ের শিকার হওয়া শিল্পপতিদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাব সচল ও বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে দেশে একটি স্বাভাবিক, সুস্থ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।
