নিজস্ব প্রতিনিধি :লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছর বয়সি এক অবুঝ শিশু শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বস্তাবন্দী করে লাশ গুমের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এলাকা। ঘাতককে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিতে বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে দেশে একের পর এক এমন লোমহর্ষক শিশু হত্যাকাণ্ড এবং তার জেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেত থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর মরদেহ উদ্ধার করার পর এই তুমুল সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে নন্দিনী। অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে ভুট্টাখেতে মাটিচাপা দেওয়া ও বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ শিশুটির চাচা বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। কিন্তু আটকের পর খুনি বিধানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বর্তমান প্রশাসনের দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা ঘাতকের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় উত্তেজিত জনতা প্রশাসনের গাড়িবহরে অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ডিসি, এসপি এবং ইউএনওর সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও বিশৃঙ্খলার দায়ে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
