জাবি প্রতিনিধি :
‘মিডিয়া সন্ত্রাস’ ও অনলাইন অপপ্রচারের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে মুরাদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বটতলায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। তাদের কণ্ঠে শোনা যায়— “মিডিয়া সন্ত্রাস নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক”, “তথ্য সন্ত্রাস নিপাত যাক, গণমাধ্যম মুক্তি পাক”, “মিডিয়া সন্ত্রাসের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও”।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও বেনামী পেজের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সাইবার বুলিং ও চরিত্রহননের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত এসব পেজকে তারা ‘গুপ্ত মিডিয়া’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন,
“আমরা সবসময় মুক্তচিন্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যমের আড়ালে এক ধরনের ‘মিডিয়া সন্ত্রাস’ চালানো হচ্ছে। ভুয়া আইডি ও বেনামী পেজের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।”
একই সমাবেশে সংগঠক সোহাগি সামিয়া বলেন,“কিছু সাংবাদিক আছেন, যারা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত থাকেন। এর ফলে প্রকৃত ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এমন সাংবাদিকতা চাই, যা সত্য তুলে ধরবে এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করবে।”
এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দৃঢ়ভাবে বলেন,
“আমাদের ক্যাম্পাসে আমরাই থাকব, কোনো গুপ্ত মিডিয়ার জায়গা এখানে হবে না।”
বক্তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতা নয়; বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
