নিজস্ব প্রতিবেদন: জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে এখনো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকাতেই দেখা যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতার কাঠামো ও সাংগঠনিক বাস্তবতায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন না আসায় ছাত্রদলকে এখনো আন্দোলন, দাবি-দাওয়া আদায় এবং সাংগঠনিক সংগ্রামের রাজনীতিতেই বেশি সক্রিয় থাকতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও ক্যাম্পাস রাজনীতির বাস্তবতা রাতারাতি বদলে যায় না। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সাংগঠনিক প্রভাব, নেতৃত্বের বলয় এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অবস্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক সমীকরণকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। ফলে রাষ্ট্রক্ষমতায় দল থাকলেও ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে আলাদা লড়াই করতে হয় ছাত্রসংগঠনগুলোকে।
এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তড়িঘড়ি করে এবং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের বিজয়ী করার ক্ষেত্রে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত কৌশলী এবং সুসংগঠিত।”
তবে এই বক্তব্য অধ্যাপকের ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের ভিন্ন মতও রয়েছে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, রাষ্ট্রক্ষমতায় তাদের দল থাকলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো সমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন কমিটি গঠন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন হওয়া সত্ত্বেও মাঠের রাজনীতিতে তাদের অনেকটা বিরোধী দলের ভূমিকাতেই থাকতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্যাম্পাসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা কেবল রাষ্ট্রক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উপস্থিতি, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, শিক্ষার্থীদের আস্থা এবং কার্যকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর। সেই বিবেচনায় ছাত্রদলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন হওয়ার পরও দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলকে এখনো বিরোধী শক্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে ছাত্ররাজনীতির গতিধারা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করবে এই অবস্থার পরিবর্তন কতটা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপি থাকলেও দেশের বহু ক্যাম্পাসে এখনো একটি প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে— “সরকারে দল, কিন্তু ক্যাম্পাসে কেন এখনো বিরোধী ছাত্রদল?”
