নিজস্ব প্রতিনিধি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর পর আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার আসামির নাম হাফিজুর রহমান। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে অবসরে যান। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন এ কর্মকর্তা।
বুধবার বিকালে হাফিজুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে কুমিল্লা সদর আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এ আদেশ দেন।
এসময় তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গত ৬ এপ্রিল এই আলোচিত মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন। ওই তিন সন্দেহভাজন হলেন- সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।
আদালত সূত্র জানায়, বহুল আলোচিত এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০বার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত এক দশকে মোট চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত করেছেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়।
পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
