নিজস্ব প্রতিনিধি : ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন অনেক সমীকরণ বদলে দিলেও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের শিক্ষাজীবনে যে অন্ধকার নেমে আসবে, তা হয়তো কারোরই কাম্য ছিল না। আশরাফুল ইসলাম মাহের—একজন মেধাবী ছাত্র, যার রোল নম্বর কোনোদিন ১ বা ২-এর নিচে নামেনি। কিন্তু শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আজ তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অধ্যায় ‘এসএসসি পরীক্ষা’ দেওয়া হলো না।
মাহেরের রাজনৈতিক জীবন মাত্র কয়েক মাসের। রাজধানীর শ্যামপুর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের ব্যানারে ১১টি মিছিলে অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর মূল কার্যক্রম। কিন্তু মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর নামের পাশে যুক্ত হয় ফৌজদারি মামলা। ১৬ বছর বয়সে তাঁকে ৫২ দিন কারাগারে কাটাতে হয়। মাহেরের ভাষ্যমতে, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং ইউনিট ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনই তাঁর শিক্ষাজীবনের পথে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ১১টি মামলা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মাহের জানান, বোর্ড পরীক্ষায় তাঁর জিপিএ কখনও ৫.০০-এর নিচে নামেনি। অথচ আজ তাঁকে শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হলো। তিনি বলেন, “আমার শিক্ষকগণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আজ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হলো না।”
পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলেও মাহেরের কণ্ঠে ঝরেছে অকুতোভয় দৃঢ়তা। তিনি লিখেছেন, “এতে আমার কোনো আফসোস নাই, ইনশাআল্লাহ সকল পরীক্ষা হবে রাজপথে। লড়াই সংগ্রামই জীবন। ইনশাআল্লাহ মেধাকে প্রতিহিংসা দিয়ে দাবাতে পারবে না। আমি পরীক্ষা দেবো, ৫ বছর পরে হলেও দেবো।”
৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। মাহেরের সমর্থকদের দাবি, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হওয়ার কারণে একজন নাবালককে এভাবে শিক্ষাজীবন থেকে বঞ্চিত করা এবং ১১টি মামলার জালে জড়ানো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
