নিজস্ব প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের সংকট ও সরবরাহ জটিলতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। সেচকাজ চালাতে না পেরে অনেকে বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন কাঁধে নিয়েই ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তেল সংগ্রহ করছেন। এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক তাদের সেচকাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন খুলে কাঁধে করে ফিলিং স্টেশনে নিয়ে আসছেন। সেখানে মেশিনে সরাসরি তেল ভরার প্রস্তুতিও নিতে দেখা যায় তাদের।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল সকালে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডগ্রি বাজারে অবস্থিত মেসার্স চোকদার ফিলিং স্টেশনে তেল সংগ্রহের জন্য যান এসব কৃষক। তাদের ধারণা ছিল, বোতল বা ড্রামে তেল সরবরাহ না করায় মেশিনসহ গেলে সহজে তেল পাওয়া যাবে। পরে তারা তেল নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া খোলা পাত্রে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয় না। তবে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি থাকলে নির্ধারিত নিয়মে তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
স্টেশনটির পরিচালনাকারী আব্দুল জব্বার জানান, “অনেক কৃষক এখনো মনে করেন বোতলে তেল দেওয়া হয় না। আগে এমন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরে প্রশাসনের নির্দেশনায় কৃষকদের সুবিধার জন্য সীমিত আকারে বোতলে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবুও ভুল ধারণার কারণে কেউ জেনারেটর, আবার কেউ শ্যালো মেশিন কাঁধে করে পাম্পে আসছেন।”
এদিকে শুধু শরীয়তপুরেই নয়, জ্বালানি তেলের সংকটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় অনেক জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে তীব্র তাপদাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহেও রয়েছে ঘাটতি দিন-রাত মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ায় বৈদ্যুতিক সেচ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত না করলে আসন্ন মৌসুমে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
