নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় এক মধ্যবয়সী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুঠিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুরাদ নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত মুরাদ উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ফিরোজ, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় বিএনপি কর্মী বুলবুল এবং যুবদল কর্মী সুমন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীর মূল বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গায় হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুঠিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। শনিবার সকালে তাঁর শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী দাবি করেন, গত ৪ জুন তিনি ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকার একটি নতুন ভাড়া বাড়িতে ওঠেন। ওই দিন রাতেই আসামিরা এক কিশোরের সঙ্গে জড়িয়ে তাঁকে অনৈতিক কাজের অপবাদ দেন। একপর্যায়ে তারা বাড়িতে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, রূপার নূপুর ও একটি মোবাইল ফোন লুট করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, লুটপাটের পর আসামি সাইফুল তাঁকে প্রথমে ধর্ষণ করেন। এরপর ফিরোজ নামের অন্য আসামি তাঁকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যান। সেখানে মুরাদ নামের আরেক আসামিকে ডেকে এনে গভীর রাতে পুনরায় ধর্ষণ করা হয়।
অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা ফিরোজ অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ওই নারীর ঘরে এক কিশোরকে আপত্তিকর অবস্থায় পেয়ে এলাকাবাসী তাদের ধরেছিল। অনৈতিক কাজের কারণে ওই রাতেই তাঁকে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় তিনি কেবল মোটরসাইকেলে করে ভুক্তভোগীকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। এখানে কোনো লুটপাট বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সত্য নাকি মিথ্যা তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মামলার একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
