নিজস্ব প্রতিনিধি
পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করতে চায়নি, জোর করে বিএনপির লোকেরা আমারে বাসা থেকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী শিল্পী বেগম। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সঙ্গে ছিল তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম।
কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হয়ে কারাগারের প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের শিল্পী বেগম বলেন, ‘গত সোমবার রাতে আমাকে বাসা থেকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জোর করে বিএনপির লোকেরা বাসা থেকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তেজগাঁও যুবদলের সেক্রেটারি সুমন এতে নেতৃত্ব দেয়। আমার ও সন্তানের অবস্থা দেখে পুলিশ গ্রেফতার করতে চায়নি, এমনকি থানায়ও নিতে চায়নি। তারপরও বিএনপির লোকদের জোরাজুরিতে একপর্যায়ে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। এরপর আমারে কোর্টে চালান দেওয়া হয়। কোর্ট জামিন নামঞ্জুর করে। আমি সিজারের রোগী এবং অসুস্থ বলার পরও জামিন দেননি বিচারক। পরে এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে জামিন হওয়ার কথা শুনতে পাই। আজ মুক্তি পেলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমার দলে কোনও পদ-পদবি ছিল না। তবে আমি দলকে ভালোবাসি। একজন নগণ্য কর্মী। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এখন বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তার দেখাবো। দেখানোর পর যদি সুস্থ থাকে তাহলে বাসায় যাবো।’
শিল্পী বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আজকে মিডিয়ায় সংবাদ হওয়ায় আমি মুক্তি পেয়েছি। মুক্তি পাওয়ায় আমার সন্তানের জন্য ভালো হলো। তীব্র গরমে কারাগারে দেড় মাসের বাচ্চা নিয়ে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে।’
সকাল থেকেই শিল্পী বেগম ও তার সন্তানকে নিতে পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা কারাগারের সামনে ভিড় করেন। শিল্পী বেগম কারাগার থেকে বের হলে তাকে সহকর্মীরা বরণ করে নেন। তেজগাঁও এলাকার শ্রমিক লীগের নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শিল্পী আপা আমাদের এলাকার বড় বোন। তার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, তা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে জামিন দিয়েছেন। আমরা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার বলেন, ‘জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌঁছালে তা যাচাই-বাছাই শেষে দুপুর ১২টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।’
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেন আদালত।
গত সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কোলের শিশুসহ মায়ের কারাবাসের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। ওই রাতেই তাকে জামিন দেন আদালত।
