জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ‘গুপ্ত’ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা স্বচ্ছতা, কঠোর যাচাই-বাছাই এবং ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ‘গুপ্ত’ রাজনীতির বিস্তার সংগঠনের ভেতরে আস্থার সংকট তৈরি করেছে, যা নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, আহ্বায়ক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল (৩৯তম ব্যাচ)
তিনি বলেন, “নতুন কমিটি নিয়ে এখন আমি কিছু বলতে চাই না।” ওয়াসিম আহমেদ অনীক, সদস্য সচিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল (৪০তম ব্যাচ) বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলই তার নিজস্ব নীতি ও মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়। একইভাবে ছাত্রদলেরও কিছু নির্দিষ্ট নীতি ও মানদণ্ড রয়েছে, যার ভিত্তিতেই সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যারা বিগত দিনে রাজপথে সক্রিয় ছিল এবং পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে, দল তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে—এ বিষয়ে আমি আশাবাদী।” সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী আফফান (৩৯তম ব্যাচ) বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলে যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন এবং এখনো নিয়মিতভাবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাদের নিয়েই একটি নতুন কমিটি গঠিত হবে—এমনটাই আমি প্রত্যাশা করি। আমি আশা করি, জনাব তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত এবং জাবির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হলে সেখানে কোনো ধরনের ‘গুপ্ত’ অনুপ্রবেশের সুযোগ থাকবে না। আমার প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করা হবে।”

সাবেক সহ-সভাপতি নবীনুর রহমান নবীন (৩৯তম ব্যাচ) বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, আদর্শিক অবস্থান ও পারস্পরিক আস্থার জায়গা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের কিছু সদস্য গোপনে অনুপ্রবেশ করে সাংগঠনিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর কারণে সংগঠনের ভেতরে বিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়েছে; নতুন কর্মী নির্বাচন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও দ্বিধা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সাংগঠনিক সংকট নয়, বরং একটি নৈতিক ও আদর্শিক সংকটও বটে। আমি মনে করি, ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও আদর্শনির্ভর—যেখানে কোনো গোপন তৎপরতার স্থান থাকবে না। যেকোনো অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি, যাতে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়ায়। আত্মসমালোচনা, সতর্কতা ও সততার মাধ্যমেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। আমি সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা স্বচ্ছ, নৈতিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস রাজনীতি গড়ে তুলি।”
হুমায়ূন হাবিব হিরন, ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক (৪০তম ব্যাচ) বলেন, গুপ্ত রাজনীতির কারণে আজ ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমরা দেখেছি ৫ অগাষ্ট পরবর্তী সময় অনেক ছাত্রলীগ নেতা ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে এবং ছাত্রশিবির পদ পেয়ে বড় বড় নতা হয়েছেন। আমরা চাই তারা গুপ্ত থেকে বেরিয়ে আসুক এবং গুপ্ত রাজনীতির অবসান ঘটুক। নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যাচাইযোগ্য তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা,ত্যাগী পরিক্ষিত নেতাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আন্দোলনে ভূমিকা, ধারাবাহিকতা ও আদর্শিক অবস্থানই হওয়া উচিত মূল মাপকাঠি।
শাহ এম ফয়সাল, যুগ্ম আহ্বায়ক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল (৩৯তম ব্যাচ) বলেন, “গুপ্ত এজেন্ট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবেশে একটি মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের পরে ছাত্র রাজনীতিতে এর ব্যাপকতা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গুপ্ত এজেন্ট বিভিন্ন সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে পরিবেশ নষ্ট করছে এবং প্রকৃত কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমান কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সদস্যদের যাচাই-বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারিবারিক, একাডেমিক ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা জরুরি। সামাজিক, পারিবারিক, একাডেমিক এবং সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সঠিক ভেরিফিকেশন করা উচিত। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও সাবেক নেতাদের পরামর্শ কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তা যেন অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না হয়।
ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকলেও সবসময় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না, তাই বাস্তবভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।

নতুন কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, মানবিক গুণাবলি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকা জরুরি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ছাত্রসংগঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপিং থাকলেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর যাচাই-বাছাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই একটি যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ কমিটি।”
সাবেক সহ-সভাপতি নবীনুর রহমান নবীন (৩৯তম ব্যাচ) বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, আদর্শিক অবস্থান ও পারস্পরিক আস্থার জায়গা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের কিছু সদস্য গোপনে অনুপ্রবেশ করে সাংগঠনিক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর কারণে সংগঠনের ভেতরে বিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়েছে; নতুন কর্মী নির্বাচন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও দ্বিধা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু সাংগঠনিক সংকট নয়, বরং একটি নৈতিক ও আদর্শিক সংকটও বটে। আমি মনে করি, ছাত্ররাজনীতি হওয়া উচিত উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও আদর্শনির্ভর—যেখানে কোনো গোপন তৎপরতার স্থান থাকবে না। যেকোনো অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি, যাতে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়ায়। আত্মসমালোচনা, সতর্কতা ও সততার মাধ্যমেই এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। আমি সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা স্বচ্ছ, নৈতিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস রাজনীতি গড়ে তুলি।”
যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফিল চৌধুরী সোহেল (৪০তম ব্যাচ) বলেন, “২০১৩-২০১৪ সালে যখন আমি কারাগারে ছিলাম, তখন সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার পরিচয় ও পরবর্তীতে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। শুরুতে তার আদর্শ বা রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তবে ধীরে ধীরে আলাপচারিতার মাধ্যমে একসময় জানতে পারি, সে শিবিরের একজন কর্মী। সে আমাকে জানায়, তারা অনেক সময় গুপ্ত এজেন্ট হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে—যেমন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলে—প্রবেশ করে, পদ-পদবি গ্রহণ করে এবং ভেতর থেকে অরাজকতা সৃষ্টি করে দলকে দুর্বল করে দেয়। কারাগার থেকে মুক্তির পরও তারা ছাত্রদলের ভেতরে এমন গুপ্ত অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায়। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে চাই, বর্তমান কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মীর বিষয়ে যথাযথ ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি। জাতীয়তাবাদী শিক্ষকবৃন্দ ও সাবেক নেতাদের পরামর্শের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হলে তা অধিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা সম্ভব; ফলে গুপ্ত এজেন্টদের স্থান করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে আমি মনে করি। যারা কমিটিতে স্থান পাবেন, তারা যেন চলমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং অতীত-বর্তমান সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম এমন নেতৃত্বে পরিণত হন—এই প্রত্যাশা রাখি। আমি কখনো কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত নই; বরং সবাইকে নিয়ে কাজ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে চাই।”
যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (৪০তম আবর্তন) বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গুপ্ত রাজনীতির একটি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন জাবি ছাত্রদলের কমিটিতে যাতে কোনো গুপ্ত অনুপ্রবেশ ঘটতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। আমরা আশা করছি, আগামীর কমিটি হবে সম্পূর্ণভাবে গুপ্তমুক্ত—ইনশাআল্লাহ।”
যুগ্ম আহ্বায়ক জরজীস মোহাম্মদ ইব্রাহীম (৪১তম আবর্তন) বলেন, “বর্তমানে ‘গুপ্ত’ রাজনীতি যারা করে, তারা সংগঠনের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করছে এবং দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের দলে রাখা উচিত নয়। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জন্য একটি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বসমৃদ্ধ কমিটি চাই। যারা কঠিন সময়ে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পূর্বে, ছাত্রলীগের সামনে দাঁড়িয়ে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল—তাদেরই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।”
মাজহারুল আমিন তমাল, যুগ্ম আহ্বায়ক (৪২তম ব্যাচ) বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ৫ আগস্টের পূর্বের ত্যাগী ও নির্যাতিত ছাত্রনেতাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা উচিত। দুঃসময়ে ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করা পরীক্ষিত ও সংগঠনকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে—এমন যোগ্যদের নিয়ে কমিটি করলে সংগঠন শক্তিশালী হবে এবং দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে।”
রায়হান হোসাইন মিল্টন, যুগ্ম আহ্বায়ক (৪৩তম ব্যাচ) বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ৫ আগস্টের আগে ছাত্রদল করা ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতাদের দিয়ে শীঘ্রই দেওয়া দরকার। পরীক্ষিতদের দিয়ে নতুন কমিটি দিলে দোসর ও গুপ্তরা প্রবেশ করতে পারবে না। খাঁটি জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকদের নেতৃত্বে আমাদের সংগঠন অনেক বেশি শক্তিশালী হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক হবে।”
কে এম রিয়াদ, যুগ্ম আহ্বায়ক (৪৩তম ব্যাচ) বলেন, “যারা আন্দোলন-সংগ্রামের সামনের সারিতে ছিলেন, দুঃসময়ে যারা দলের পাশে থেকেছেন—তাদেরকে কমিটিতে মূল্যায়ন করা হলে একটি সৎ ও সুন্দর কমিটি গঠন সম্ভব বলে আমি আশা করি।” মোহাম্মদ রাজন মিয়া, আহ্বায়ক সদস্য (৪৬তম আবর্তন) বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা সত্যিকার অর্থে ছাত্রদলের পরিচয়ে পরিচিত এবং কারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে—এই বিষয়গুলো আমাদের গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে অনুরোধ, যারা নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে রাজপথ বেছে নিয়েছিল, তারা যেন তাদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে যারা দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রেখেছে, তাদের উপেক্ষা করে কোনো কমিটি গঠন করলে তা কখনোই সঠিক বা স্বচ্ছ কমিটি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত অনেকের মধ্যেই গুপ্ত রাজনীতির সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। আমরা অতীতে দেখেছি, ছাত্রলীগের ভেতরেও ভিন্ন মতাদর্শের গোপন প্রভাব ছিল। তাই জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রদলকে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে হলে বর্তমান সময়ে যারা হলে অবস্থান করছে এবং ৫ আগস্টের আগেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল তাদের দিয়েই কমিটি গঠন করা অধিক যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ হবে। অনেক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
